শ্রীভক্তিরক্ষক হরিকথামৃত


রীচৈতন্য-সারস্বত মঠের প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য্য
ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ সম্পর্কে
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য্য
শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজের একটি ভাষণ

 

     আমরা পরমারাধ্যতম ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর মহারাজের শ্রীমুখ নিঃসৃত ভাষণ শ্রবণ করে নিজেদের অতিশয় ভাগ্যবান বলে মনে করছি । বয়স এবং অভিজ্ঞতা উভয় দিক থেকেই তিনি আমার চেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ । অনেক কাল আগে থেকে, সম্ভবতঃ ইংরাজী ১৯৩০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গলাভ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল । সেই সময়ে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেননি । সদ্য গৃহ পরিত্যাগ করে এসেছেন । তিনি এলাহাবাদে প্রচারে গিয়েছিলেন এবং সেই শুভ মুহূর্ত্তে আমরা পরস্পর মিলিত হয়েছিলাম ।
     শ্রীধর মহারাজ আমার বাড়ীতে বেশ কয়েক বছর বাস করেছিলেন, সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে অনেক অন্তরঙ্গ কথাবার্ত্তা হত । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে তাঁর এমন উচ্চস্তরের উপলব্ধি আছে যে, সাধারণ যে কেউ তা শুনলে মুর্চ্ছিত হয়ে যাবে । তিনি বরাবরই আমার শুভ পরামর্শদাতা এবং আমি তাঁর উপদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেছিলাম ; যেহেতু প্রথম থেকেই আমি জানতাম যে তিনি কৃষ্ণের একজন শুদ্ধ ভক্ত । সেজন্য আমি তাঁর সঙ্গ লাভ করতে চেয়েছিলাম । কৃষ্ণ এবং প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত তাঁকেই পছন্দ করেছিলেন আমাকে প্রস্তুত করার জন্য । আমাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট ।
     আমাদের গুরুমহারাজের প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে যাওয়ার পর শ্রীধর মহারাজকে প্রধান করে আমি আর একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে মনস্থ করেছিলাম । শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর আমাকে বলেছিলেন যে সারা পৃথিবীতে শ্রীধর মহারাজ হলেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-বাণীর সর্ব্বাপেক্ষা সুযোগ্য, সূক্ষ্মদর্শী প্রচারকদের মধ্যে অন্যতম । সুতরাং আমি তাঁকে সর্ব্বত্র নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম । এটিই ছিল আমার প্রবল ইচ্ছা । কিন্তু তাঁর যখন সারা বিশ্বে প্রচার করতে যাওয়া হয়ে ওঠেনি, অন্ততঃ সারা বিশ্বের জনগণের তাঁর নিকট আসা উচিত—কিছু শোনার জন্য ।
     জীবনের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য আমাদের নিশ্চয়ই এমন একজনের কাছে যাওয়া উচিত যিনি সত্য সত্যই আধ্যাত্মিক জীবনাদর্শ অনুশীলন করেছেন । সুতরাং কেউ যদি সত্য সত্যই শিক্ষাগুরুর নিকট থেকে উপদেশ গ্রহণে আগ্রহী হয় তাহলে তার ভক্তিরক্ষক শ্রীধর মহারাজ থেকে শ্রবণ করা কর্ত্তব্য । এমন কি আমি নিজে শ্রীধর মহারাজকে আমার শিক্ষাগুরু বলে মনে করি । সুতরাং অন্যান্যরা যে তাঁর সঙ্গলাভ থেকে উপকৃত হবেন তাতে আর বলার কি থাকতে পারে ।

—: * : —

 


 

← শ্রীগুরু আরতি-স্তুতি ১. আত্মতত্ত্ব ও ভগবৎ-তত্ত্ব →

 

সূচীপত্র:

শ্রীশ্রীগুরু-গৌরাঙ্গ-প্রণতি
নম্র নিবেদন
প্রণতি-দশকম্
শ্রীগুরু আরতি-স্তুতি
শ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ সম্পর্কে
১। আত্মতত্ত্ব ও ভগবৎ-তত্ত্ব
২। জীবের চরম প্রাপ্তি
৩। সমস্যা ও সমাধান
৪। পরমার্থ লাভের পন্থা
৫। বন্ধন মুক্তির উপায়
৬। বৈষ্ণব জীবনে আনুগত্য
৭ । ধর্ম্ম শিক্ষা ও বিশ্বাস
৮ । শ্রীশরণাগতি
৯ । বজীবের স্বাধীন ইচ্ছার নিশ্চয়াত্মক স্বার্থকতা
১০ । সর্ব্বাবস্থায় ভগবানের কৃপাদর্শনেই প্রকৃত সুখ লাভ
১১ । মানব জীবনের কর্ত্তব্য
১২ । ভগবানের সঙ্গে যোগাযোগের উপায়
১৩ । আগুন জ্বালো, বাতাস আপনি আসবে
১৪ । মা মুঞ্চ-পঞ্চ-দশকম্


PDF ডাউনলোড (26.7 Mb)
বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥