শ্রীশ্রীপ্রপন্নজীবনামৃতম্


ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ

শ্রীভক্তবচনামৃতম্
গোপ্তৃত্বে-বরণম্

 

 

হে কৃষ্ণ ! পাহি মাং নাথ কৃপয়াত্মগতং কুরু ।
ইত্যেবং প্রার্থনং কৃষ্ণং প্রাপ্তুং স্বামিস্বরূপতঃ ॥১॥
গোপ্তৃত্বে বরণং জ্ঞেয়ং ভক্তৈর্হৃদ্যতরং পরম্ ।
প্রপত্ত্যেকার্থকত্বেন তদঙ্গিত্বেন তৎ স্মৃতম্ ॥২॥

হে কৃষ্ণ ! আমাকে পালন কর, হে নাথ ! কৃপা করিয়া আমাকে আত্মসাৎ কর, এই প্রকার এবং কৃষ্ণকে পতিরূপে পাইবার প্রার্থনাকে ভক্তগণ পরম হৃদয়সুখকর ‘গোপতৃত্বে বরণ’ বলিয়া জানেন । প্রপত্তির সহিত একার্থবোধক বলিয়া ইহা প্রপত্তির বিভিন্ন অঙ্গের অঙ্গিস্বরূপে গৃহীত হয় ॥১-২॥

শ্রীভগবতো ভক্তভাবেনাশ্রয়-প্রার্থনম্—
অয়ি নন্দতনুজ কিঙ্করং পতিতং মাং বিষমে ভবাম্বুধৌ ।
কৃপয়া তব পাদপঙ্কজস্থিতধূলীসদৃশং বিচিন্তয় ॥৩॥
শ্রীশ্রীভগবতশ্চৈতন্যচন্দ্রস্য
শ্রীভগবানের ভক্তভাবে আশ্রয় প্রার্থনা—
“ওহে নন্দনন্দন, আমি তোমার নিত্যকিঙ্কর হইয়াও স্বকর্ম্ম-বিপাকে বিষম ভবসমুদ্রে পড়িয়াছি, তুমি কৃপা কিরয়া আমাকে তোমার পাদপদ্মস্থিত ধূলীসদৃশ চিন্তা কর” ॥৩॥
সর্ব্বসদ্­গুণবিগ্রহ আত্মপ্রদো হরিরেব গোপ্তৃত্বেন বরণীয়ঃ—
কঃ পণ্ডিতস্ত্বদপরং শরণং সমীয়াদ্-
ভক্তপ্রিয়াদৃতগিরঃ সুহৃদঃ কৃতজ্ঞাৎ ।
সর্ব্বান্ দদাতি সুহৃদো ভজতোঽভিকামা-
নাত্মানমপ্যুপচয়াপচয়ৌ ন যস্য ॥৪॥
শ্রীমদক্রূরস্য
নিখিলসদ্­গুণমূর্ত্তি আত্মপ্রদ শ্রীহরিই গোপ্তৃত্বে বরণীয়—
“প্রিয়সত্যবাক্ সুহৃৎ ও কৃতজ্ঞরূপ আপনাকে ছাড়িয়া কোন্ পণ্ডিত অপরের শরণাপন্ন হয় ? আপনি ভজনশীল সুহৃদ্ ব্যক্তিগণকে সমস্ত কাম এবং আপনাকে পর্য্যন্ত দিয়া থাকেন, অথচ আপনার হ্রাস-বৃদ্ধি নাই” ॥৪॥
শ্রীকৃষ্ণচরণমেব প্রপন্নানাং সন্তাপহারি-সুধাবর্ষি আতপত্রম্—
তাপত্রয়েণাভিহতস্য ঘোরে সন্তপ্যমানস্য ভবাধ্বনীশ ।
পশ্যামি নান্যচ্ছরণং তবাঙ্ঘ্রি-দ্বন্দ্বাতপত্রাদমৃতাভিবর্ষাৎ ॥৫॥
শ্রীমদুদ্ধবস্য
শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্ম আশ্রিতজনের সন্তাপহারী ও সুধাবর্ষী ছত্রস্বরূপ—
হে স্বামিন্, এই ধোর সংসারমার্গে ত্রিতাপে সন্তপ্ত ব্যক্তির পক্ষে আপনার পাদপদ্মরূপ অমৃতনিঃস্যন্দি আতপত্র ব্যতীত আর কোন আশ্রয় দেখিতেছি না ॥৫॥
ষড়্­রিপুতাড়িতস্য শান্তিহীনস্য স্বনাথচরণাশ্রয়মেব অভয়াশোকামৃতপ্রদম্—
চিরমিহ বৃজিনার্ত্তস্তপ্যমানোঽনুতাপৈ-
রবিতৃষষড়মিত্রোঽলব্ধশান্তিঃ কথঞ্চিৎ ।
শরণদ সমুপেতস্ত্বৎ পদাব্জং পরাত্ম-
ন্নভয়মৃতমশোকং পাহি মাপন্নমীশ ॥৬॥
শ্রীমুচুকুন্দস্য
ষড়্­রিপুতাড়িত, শান্তিহীন জীবের নিজপ্রভুর শ্রীচরণাশ্রয়ই অভয়াশোকামৃতপ্রদ—
হে পরাত্মন্, আমি ইহলোকে সুদীর্ঘকাল পাপপীড়িত, অনুতাপতপ্ত ও তৃষিত ষড়্­রিপুর তাড়নায় শান্তিহীন হইয়া, হে শরণদ, কোনরূপে তোমার অশোক, অভয়, অমৃতস্বরূপ পাদপদ্মে সমুপস্থিত হইয়াছি । হে স্বামিন্, এই আপদ্­গ্রস্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করুন ॥৬॥
লব্ধস্বরূপসন্ধানস্য কামাদিসঙ্গজন্যনিজবৈরূপ্যে-ধিক্কারযুক্তস্য শরণাগতস্য শ্রীহরিদাস্যমেব অসচ্চেষ্টাদিতো নিষ্কৃতি কারকত্বেন অনুভূতম্—
কামাদীনাং কতি ন কতিধা পালিতা দুর্নিদেশা-
স্তেষাং জাতা ময়ি ন করুণা ন ত্রপা নোপশান্তিঃ ।
উৎসৃজ্যৈতানথ যদুপতে সাম্প্রতং লব্ধবুদ্ধি-
স্ত্বামায়াতঃ শরণমভয়ং মাং নিযুঙ্ক্ষ্বাত্মদাস্যে ॥৭॥
কেষাঞ্চিৎ
স্বরূপের সন্ধানপ্রপ্ত, কামাদিসঙ্গজন্য নিজ বিরূপধিক্কারকারী, শরণাগত জনের শ্রীকৃষ্ণসেবাতেই অসচ্চেষ্টা সমূহের হস্ত হইতে চির নিষ্কৃতি হইয়া থাকে—এই সত্যের উপলব্ধি—
“হে ভগবন্, কামাদির কতপ্রকার দুষ্ট আদেশই আমি পালন করিয়াছি । তথাপি আমার প্রতি তাহাদের করুণা এবং আমার লজ্জা ও উপশান্তি হইল না । হে যদুপতে ! আপাততঃ আমি তাহাদিগকে পরিত্যাগ করিয়া সদ্­বুদ্ধি লাভ করতঃ তোমার অভয়চরণে শরণাগত হইলাম । তুমি এখন আমাকে আত্মদাস্যে নিযুক্ত কর” ॥৭॥
উপলব্ধকৃষ্ণাশ্রয়ৈকমঙ্গলস্য চাশ্রয়প্রাপ্তিবিলম্বনে তদপ্রাপ্তি-সম্ভাবনায়ামুদ্বেগপ্রকাশঃ—
কৃষ্ণ ! ত্বদীয়পদপঙ্কপঞ্জরান্ত-
মদ্যৈব মে বিশতু মানস-রাজহংসঃ ।
প্রাণপ্রয়াণ-সময়ে কফবাতপিত্তৈঃ
কন্ঠাবরোধনবিধৌ স্মরণং কুতস্তে ॥৮॥
শ্রীকুলশেখরস্য
শ্রীকৃষ্ণাশ্রয়েই একমাত্র মঙ্গল—ইহা উপলব্ধিকারীর আশ্রয়-প্রাপ্তির বিলম্বে অনিশ্চিত অবস্থার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ—
হে কৃষ্ণ ! তোমার পাদপদ্মপিঞ্জরে আমার মানসরাজহংস অদ্যই প্রবেশ করুক । প্রাণত্যাগকালে বায়ুপিত্ত-কফদ্বারা কন্ঠরোধ ঘটিলে তোমার স্মরণ কি প্রকারে হইবে ? ৮॥
স্বরূপত এব শ্রীকৃষ্ণস্যাভিভাবকত্বপালকত্বদর্শনেন তদাশ্রয়প্রার্থনা—
কৃষ্ণো রক্ষতু নো জগত্ত্রয়গুরুঃ কৃষ্ণং নমধ্বং সদা
কৃষ্ণেনাখিলশত্রবো বিনিহতাঃ কৃষ্ণায় তস্মৈ নমঃ ।
কৃষ্ণাদেব সমুত্থিতং জগদিদং কৃষ্ণস্য দাসোঽস্ম্যহং
কৃষ্ণে তিষ্ঠতি বিশ্বমেতদখিলং হে কৃষ্ণ রক্ষস্ব মাম্ ॥৯॥
শ্রীকুলশেখরস্য
শ্রীকৃষ্ণই জীবের স্বাভাবিক অভিভাবক ও পালক—এই প্রকার দর্শনে তাঁহার আশ্রয় প্রার্থনা—
ত্রিলোকগুরু কৃষ্ণই আমাদিগকে রক্ষা করুন । সর্ব্বদা কৃষ্ণকে নমস্কার কর । কৃষ্ণ নিখিল শত্রুর বিনাশকারী, সেই কৃষ্ণকে সনস্কার করি । এই জগৎ কৃষ্ণ হইতে সমুত্থিত । আমি কৃষ্ণেরই দাস । এই সমগ্র বিশ্ব কৃষ্ণেই অবস্থিত । হে কৃষ্ণ, আমাকে রক্ষা কর ॥৯॥
গোপীজনবল্লভ এব পরমপালকঃ—
হে গোপালক হে কৃপাজলনিধে হে সিন্ধুকন্যাপতে
হে কংসান্তক হে গজেন্দ্রকরুণাপারীণ হে মাধব ।
হে রামানুজ হে জগত্ত্রয়গুরো হে পুণ্ডরীকাক্ষ মাং
হে গোপীজননাথ পালয় পরং জানামি ন ত্বাং বিনা ॥১০॥
শ্রীকুলশেখরস্য
শ্রীগোপীজন-বল্লভ কৃষ্ণই পালক—
হে গোপাল, হে কৃপাসিন্ধো, হে শ্রীপতে, হে কংসনাশন, হে গজেন্দ্র-করুণাপারীণ (পারগামী), হে মাধব, হে রামানুজ, হে জগত্ত্রয়গুরো, হে পুণ্ডরীকাক্ষ, হে গোপীজনবল্লভ, আমাকে সর্ব্বতোভাবে পালন কর । তুমি বিনা আর কাহাকেও আমি জানি না ॥১০॥
নিত্যপার্ষদা অপি সর্ব্বাত্মনা শ্রীকৃষ্ণাশ্রয়ং প্রার্থয়ন্তে—
মনসো বৃত্তয়ো নঃ স্যুঃ
কৃষ্ণপাদাম্বুজাশ্রয়াঃ ।
বাচোঽভিধায়িনীর্নাম্নাং
কায়স্তৎপ্রহ্বণাদিষু ॥১১॥
শ্রীনন্দস্য
নিত্য পার্ষদগণেরও সর্ব্বাত্মায় শ্রীকৃষ্ণাশ্রয় প্রার্থনা—
“নন্দ কহিলেন,—হে উদ্ধব, আমাদের সমস্ত মানসবৃত্তি শ্রীকৃষ্ণপাদাম্বুজকে আশ্রয় করুক, আমাদিগের বাক্যসকল তাঁহার নামকীর্ত্তন করুক এবং আমাদিগের দেহ তাঁহার অভিবাদনে প্রযুক্ত হউক” ॥১১॥
ব্রজলীলস্য শ্রীকৃষ্ণস্য পালকত্বং প্রভাবময়ম্—
দধিমথননিনাদৈস্ত্যক্তনিদ্রঃ প্রভাতে
নিভৃতপদমগারং বল্লবীনাং প্রবিষ্টঃ ।
মুখকমলসমীরৈরাশু নির্ব্বাপ্য দীপান্
কবলিত-নবনীতঃ পাতু মাং বালকৃষ্ণঃ ॥১২॥
শ্রীশ্রীভগবতশ্চৈতন্যচন্দ্রস্য
ব্রজলীল শ্রীকৃষ্ণের পালকতা পরমপ্রভাবময়—
প্রভাতে দধিমন্থন-শব্দে নিদ্রাত্যাগ করিয়া নিঃশব্দপদে গোপীকা-গণের গৃহপ্রবেশপূর্ব্বক মুখকমল-মারুতে সত্বর দীপসমূহ নির্ব্বাপিত করিয়া নিজ কবলে নবনীত-নিক্ষেপকারী বালকৃষ্ণ আমাকে পালন করুন ॥১২॥
সর্ব্বথা যোগ্যতাহীনস্যাপি প্রপত্তাবনধিকারো ন—
ন ধর্ম্মনিষ্ঠোঽস্মি ন চাত্মবেদী
ন ভক্তিমাংস্ত্বচ্চরণারবিন্দে ।
অকিঞ্চনোঽনন্যগতিঃ শরণ্য
ত্বৎপাদমূলং শরণং প্রপদ্যে ॥১৩॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
সর্ব্বপ্রকারে অযোগ্য ব্যক্তিও প্রপত্তিতে অনধিকারী নয়—
হে শরণ্য, আমি ধর্ম্মনিষ্ঠ নহি, আত্মতত্ত্বজ্ঞ নহি, তোমার শ্রীপাদপদ্মে ভক্তিমান্ও নহি ; অতএব নিষ্কিঞ্চন অর্থাৎ সমস্ত সাধনসম্পদ্হীন এবং গত্যন্তররহিত । সেই আমি তোমার পাদমূলে শরণ গ্রহণ করি ॥১৩॥
শ্রীভগবতঃ কৃপাবলোকনমেবাশ্রয়দাতৃত্বম্—
অবিবেক-ঘনান্ধদিঙ্মুখে বহুধা সন্ততদুঃখবর্ষিণি ।
ভগবন্ ভবদুর্দ্দিনে পথস্খলিতং মামবলোকয়াচ্যুত ॥১৪॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
শ্রীভগবানের কৃপাবলোকনই আশ্রয়দান—
হে ভগবন্, অবিবেকরূপ মেঘসমূহ দিঙ্মগুল অন্ধকার করিয়া নিরন্তর বহুপ্রকার দুঃখ বর্ষণ করিতেছে । এতাদৃশ সংসার-দুর্যোগে আমি পথভ্রষ্ট । হে অচ্যুত, আমাকে অবলোকন কর ॥১৪॥
জীবস্য ভগবৎপাল্যত্বং স্বরূপত এব সিদ্ধম্—
তদহং ত্বদৃতে ন নাথবান্ মদৃতে ত্বং দয়নীয়বান্ন চ ।
বিধিনির্ম্মিতমেতদন্বয়ং ভগবন্ পালয় মাস্ম জীহয় ॥১৫॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
জীবের ভগবৎপাল্যত্ব স্বরূপতই সিদ্ধ—
হে ভগবন্, যখন তুমি ব্যতীত আমি সনাথ হইতে পারি না ও আমি ব্যতীত তুমিও দয়াপাত্রবান্ হইতে পার না এবং আমাদের এই সম্বন্ধ বিধাতা-নির্ম্মিত, তখন হে ঠাকুর, আমাকে পালন কর, পরিত্যাগ করিও না ॥১৫॥
প্রপন্নস্য বিবিধসেবাসম্বন্ধঃ—
পিতা ত্বং মাতা ত্বং দয়িত-তনয়স্ত্বং প্রিয়সুহৃ-
ত্ত্বমেব ত্বং মিত্রং গুরুরপি গতিশ্চাসি জগতাম্ ।
ত্বদীয়স্ত্বদ্ভৃত্যস্তব পরিজনস্তদ্গতিরহং
প্রপন্নশ্চৈবং স ত্বহমপি তবৈবাস্মি হি ভরঃ ॥১৬॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
প্রপন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন ভগবৎসেবা-সম্বন্ধ—
তুমি জগতের পিতা ও মাতা, তুমি জগতের প্রিয়পুত্র ও প্রিয় সুহৃৎ এবং মিত্র, তুমিই জগতের গুরু ও জগতের গতি । আর আমিও তোমারই, তোমার পাল্য, তোমার পরিজন । তুমিই আমার গতি, তোমারই আমি শরণাগত ও সেই আমি তোমার ভারস্বরূপ ॥১৬॥
ভগবতশ্চৈতন্যচন্দ্রস্য পতিতপালকত্বম্—
সংসারদুঃখজলধৌ পতিতস্য কাম-
ক্রোধাদি-নক্রমকরৈঃ কবলীকৃতস্য ।
দুর্ব্বাসনা-নিগড়িতস্য নিরাশ্রয়স্য
চৈতন্যচন্দ্র মম দেহি পদাবলম্বম্ ॥১৭॥
শ্রীপ্রবোধানন্দপাদানাং
ভগবান্ শ্রীচৈতন্যচন্দ্রের পতিতজনপালকত্ব—
হে চৈতন্যচন্দ্র, আমি সংসারদুঃখসাগরে পতিত, কামক্রোধাদি-নক্রমকর-কবলিত, দুর্ব্বাসনা-শৃঙ্খলিত ও নিরাশ্রয় । আমাকে তোমার পদাবলম্বন প্রদান কর ॥১৭॥
নিরাশস্যাপি আশাপ্রদং গৌরশরণম্—
হা হন্ত হন্ত পরমোষরচিত্তভূমৌ
ব্যর্থীভবন্তি মম সাধনকোটয়োঽপি ।
সর্ব্বাত্মনা তদহমদ্ভুতভক্তিবীজং
শ্রীগৌরচন্দ্রচরণং শরণং করোমি ॥১৮॥
শ্রীপ্রবোধানন্দপাদানাং
শ্রীগৌরচন্দ্রের শরণ নিরাশেরও আশাপ্রদ—
হায়, হায়, আমার অত্যন্ত কঠিন হৃদয়ক্ষেত্রে কোটি কোটি সাধনও ব্যর্থ হইতেছে । তাই আমি সর্ব্বান্তঃকরণে আশ্চর্য্য ভক্তিবীজের আকর শ্রীগৌরচন্দ্রচরণে শরণ গ্রহণ করিতেছি ॥১৮॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যপ্রপন্নস্য বৈরাগ্যাদিভক্তিপরিকরসিদ্ধিঃ—
বৈরাগ্য-বিদ্যা-নিজভক্তিযোগ-শিক্ষার্থমেকঃ পুরুষঃ পুরাণঃ ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যশরীরধারী কৃপাম্বুধির্যস্তমহং প্রপদ্যে ॥১৯॥
শ্রীসার্ব্বভৌমপাদানাং
শ্রীচৈতন্যচরণে শরণাগতের বৈরাগ্যাদি ভক্তিপরিকর-সিদ্ধি—
“বৈরাগ্য, বিদ্যা ও নিজ ভক্তিযোগ শিক্ষা দিবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-রূপধারী একটী সনাতন পুরুষ—সর্ব্বদা কৃপাসমুদ্র, তাঁহার প্রতি আমি প্রপন্ন হই” ॥১৯॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যপ্রপত্তিরেব যুগধর্ম্মঃ—
অন্তঃকৃষ্ণং বহিগে রং দর্শিতাঙ্গাদিবৈভবম্ ।
কলৌ সঙ্কীর্ত্তনাদ্যৈঃ স্ম কৃষ্ণচৈতন্যমাশ্রিতাঃ ॥২০॥
শ্রীজীবপাদানাং
শ্রীচৈতন্যচরণ-প্রপত্তিই যুগধর্ম্ম—
“অঙ্গ-উপাঙ্গাদি-বৈভব-লক্ষিত, ভিতরে সাক্ষাৎ কৃষ্ণ, বাহ্যে গৌরস্বরূপ কৃষ্ণচৈতন্যকে কলিযুগে সঙ্কীর্ত্তনাদি অঙ্গের দ্বারা আশ্রয় করিতেছি” ॥২০॥
শ্রীচৈতন্যাশ্রিতস্য পরমপুমর্থপ্রাপ্তিঃ—
যোঽজ্ঞানমত্তং ভুবনং দয়ালু-
রুল্লাঘয়ন্নপ্যকরোৎ প্রমত্তম্ ।
স্বপ্রেমসম্পৎসুধয়াদ্ভুতেঽহং
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমমুং প্রপদ্যে ॥২১॥
শ্রীকৃষ্ণদাসপাদানাং
শ্রীচৈতন্যাশ্রিতের পরমপুমর্থপ্রাপ্তি—
“যে দয়ালুপুরুষ অজ্ঞানমত্ত জগৎকে অজ্ঞান-ব্যাধি হইতে মোচন করতঃ স্বীয় প্রেমসম্পৎসুধাদ্বারা প্রমত্ত করিয়াছিলেন, আমি সেই অদ্ভুতচেষ্ট শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের শরণাপন্ন হই” ॥২১॥
শ্রুতিবিমৃগ্য-শ্রীহরিনাম-সংশ্রয়ণমেব পরমমুক্তানাং ভজনম্—
নিখিলশ্রুতিমৌলিরত্নমালা-
দ্যুতি-নীরাজিতপাদপঙ্কজান্ত ।
অতি মুক্তকুলৈরুপাস্যমান !
পরিতস্ত্বাং হরিনাম সংশ্রয়ামি ॥২২॥
শ্রীরূপপাদানাং
সমস্ত শ্রুতির লক্ষ্যস্থল শ্রীহরিনামাশ্রয়ই পরম মুক্তগণের ভজন—
“নিখিল বেদের শিরোভাগ—উপনিষদ্­রূপ রত্নমালার প্রভানিকর দ্বারা তোমার পদকমলের শেষসীমা নিরন্তর নীরাজিত হইতেছে । হে হরিনাম, তুমি মুক্তকুলের (নিবৃত্ততর্ষ নারদ শুকাদি) দ্বারা নিরন্তর উপাসিত হইতেছ । অতএব হে হরিনাম ! আমি সর্ব্বতোভাবে তোমার শরণ গ্রহণ করিতেছি” ॥২২॥

ইতি শ্রীপ্রপন্নজীবনামৃতে শ্রীভক্তবচনামৃতান্তর্গতং
গোপ্তৃত্বে বরণং নাম ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ ।

 

 

← ৫ রক্ষিষ্যতীতি বিশ্বাসঃ ৭ আত্মনিক্ষেপঃ →

 

সূচিপত্র:
প্রকাশকের নিবেদন
নিবেদন
১ উপক্রমামৃতম্
২ শ্রীশাস্ত্রবচনামৃতম্
শ্রীভক্তবচনামৃতম্—
৩ আনুকূল্যস্য সঙ্কল্পঃ
৪ প্রাতিকূল্য-বিবর্জ্জনম্
৫ রক্ষিষ্যতীতি বিশ্বাসঃ
৬ গোপ্তৃত্বে-বরণম্
৭ আত্মনিক্ষেপঃ
৮ কার্পণ্যম্
৯ শ্রীশ্রীভগবদ্বচনামৃতম্
১০ অবশেষামৃতম্
গ্রন্থকারের রচিত কতিপয় স্তব-রত্ন
শ্রীশ্রীপ্রভুপাদপদ্ম-স্তবকঃ
শ্রীমদ্ভক্তিবিনোদবিরহদশকম্
শ্রীশ্রীমদ্­গৌরকিশোরনমস্কারদশকম্
শ্রীশ্রীদয়িতদাসদশকম্
শ্রীমদ্রূপপদরজঃ-প্রার্থনা-দশকম্
শ্রীদয়িত-দাস-প্রণতি-পঞ্চকম্
প্রণতি-দশকম্
শ্রীগুরু আরতি-স্তুতি
প্রণাম-মন্ত্রম্

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥