শ্রীশ্রীপ্রেমবিবর্ত্ত


১৮। শ্রীএকাদশী

 

একদিন গৌরহরিশ্রীগুণ্ডিচা পরিহরি’

‘জগন্নাথবল্লভে’ বসিলা ।

শুদ্ধা একাদশী দিনেকৃষ্ণনাম-সুকীর্ত্তনে

দিবস রজনী কাটাইলা ॥১॥
 
সঙ্গে স্বরূপদামোদররামানন্দ, বক্রেশ্বর

আর যত ক্ষেত্রবাসিগণ ।

প্রভু বলে, “একমনেকৃষ্ণনাম-সঙ্কীর্ত্তনে

নিদ্রাহার করিয়ে বর্জ্জন ॥২॥
 
কেহ কর সঙ্খ্যানামকেহ দণ্ডপরণাম

কেহ বল রামকৃষ্ণকথা” ।

যথা তথা পড়ি’ সবে‘গোবিন্দ’ ‘গোবিন্দ’ রবে

মহাপ্রেমে প্রমত্ত সর্ব্বথা ॥৩॥
 
হেন কালে গোপীনাথপড়িছা সার্ব্বভৌম সাথ

গুণ্ডিচা-প্রসাদ লঞা আইল ।

অন্নব্যঞ্জন, পিঠা, পানা,পরমান্ন, দধি, ছানা

মহাপ্রভু-অগ্রেতে ধরিল ॥৪॥
 
প্রভুর আজ্ঞায় সবেদণ্ডবৎ পড়ি’ তবে

মহাপ্রসাদ বন্দিয়া বন্দিয়া ।

ত্রিযামা রজনী সবেমহাপ্রেমে মগ্নভাবে

অকৈতবে নামে কাটাইয়া ॥৫॥
 
প্রভু-আজ্ঞা শিরে ধরি’প্রাতঃস্নান সবে করি’

মহাপ্রসাদ সেবায় পারণ ।

করি’ হৃষ্ট চিত্ত সবেপ্রভুর চরণে তবে

করযোড়ে করে নিবেদন ॥৬॥
 

শ্রীক্ষেত্রে শ্রীএকাদশী

“সর্ব্বব্রত-শিরোমণিশ্রীহরিবাসরে জানি

নিরাহারে করি জাগরণ ।

জগন্নাথ-প্রসাদান্নক্ষেত্রে সর্ব্বকালে মান্য

পাইলেই করিয়ে ভক্ষণ ॥৭॥
 
এ সঙ্কটে ক্ষেত্রবাসেমনে হয় বড় ত্রাসে

স্পষ্ট আজ্ঞা করিয়ে প্রার্থনা ।

সর্ব্ববেদ আজ্ঞা তবযাহা মানে ব্রহ্মা শিব

তাহা দিয়া ঘুচাও যাতনা” ॥৮॥
 

শ্রীমহাপ্রভুর বিচার

প্রভু বলে, “ভক্তি-অঙ্গেএকাদশী-মান-ভঙ্গে

সর্ব্বনাশ উপস্থিত হয় ।

প্রসাদ-পূজন করি’পরদিনে পাইলে তরি

তিথি পরদিনে নাহি রয় ॥৯॥
 
শ্রীহরিবাসর-দিনেকৃষ্ণনামরসপানে

তৃপ্ত হয় বৈষ্ণব সুজন ।

অন্য রস নাহি লয়অন্য কথা নাহি কয়

সর্ব্বভোগ করয়ে বর্জ্জন ॥১০॥
 
প্রসাদ ভোজন নিত্যশুদ্ধ বৈষ্ণবের কৃত্য

অপ্রসাদ না করে ভক্ষণ ।

শুদ্ধা একাদশী যবেনিরাহার থাকে তবে

পারণেতে প্রসাদ ভোজন ॥১১॥
 
অনুকল্পস্থানমাত্রনিরন্ন প্রসাদপাত্র

বৈষ্ণবকে জানিহ নিশ্চিত ।

অবৈষ্ণব জন যারাপ্রসাদ-ছলেতে তারা

ভোগে হয় দিবানিশি রত ।

পাপপুরুষের সঙ্গেঅন্নাহার করে রঙ্গে

নাহি মানে হরিবাসর-ব্রত ॥১২॥
 
ভক্তি-অঙ্গ সদাচারভক্তির সম্মান কর

ভক্তি-দেবী-কৃপা-লাভ হবে ।

অবৈষ্ণবসঙ্গ ছাড়একাদশীব্রত ধর

নামব্রতে একাদশী তবে ॥১৩॥

প্রসাদসেবন আর শ্রীহরিবাসরে ।

বিরোধ না করে কভু বুঝহ অন্তরে ॥১৪॥

এক অঙ্গ মানে, আর অন্য অঙ্গে দ্বেষ ।

যে করে নির্ব্বোধ সেই, জানহ বিশেষ ॥১৫॥

যে অঙ্গের যেই দেশকালবিধিব্রত ।

তাহাতে একান্তভাবে হও ভক্তিরত ॥১৬॥

সর্ব্ব অঙ্গের অধিপতি ব্রজেন্দ্রনন্দন ।

যাহে তেঁহ তুষ্ট তাহা করহ পালন ॥১৭॥

একাদশী-দিনে নিদ্রাহার বিসর্জ্জন ।

অন্য দিনে প্রসাদ নির্ম্মাল্য সুসেবন” ॥১৮॥

শুনিয়া বৈষ্ণব সবআনন্দে গোবিন্দরব

দণ্ডবৎ পড়িলেন তবে ।

স্বরূপাদি রামানন্দপাইলেন মহানন্দ

‘উড়িয়া’ ‘গৌড়িয়া’ ভক্ত সবে ॥১৯॥
 
ওহে ভাই, গৌরাঙ্গ আমার প্রাণধন ।

অকৈতবে ভজ তাঁরেযাবে তবে ভবপারে

শীতল হইবে তনুমন ॥২০॥

শ্রীনামভজন ও একাদশী এক

শ্রীনামভজন আর একাদশী ব্রত ।

একতত্ত্ব নিত্য জানি’ হও তাহে রত ॥২১॥

 


 

← ১৭। ভক্তভেদে আচারভেদ ১৯। নামরহস্যপটল →

 

সূচীপত্র:
১। মঙ্গলাচরণ
২। গ্রন্থরচনা
৩। প্রথম প্রণাম
৪। গৌরস্য গুরুতা
৫। বিবর্ত্তবিলাসসেবা
৬। জীব-গতি
৭। সকলের পক্ষে নাম
৮। কুটীনাটি ছাড়
৯। যুক্তবৈরাগ্য
১০। জাতিকুল
১১। নবদ্বীপ-দীপক
১২। বৈষ্ণব-মহিমা
১৩। শ্রীগৌরদর্শনের ব্যাকুলতা
১৪। বিপরীত বিবর্ত্ত
১৫। শ্রীনবদ্বীপে পূর্ব্বাহ্ণ-লীলা
১৬। পীরিতি কিরূপ ?
১৭। ভক্তভেদে আচারভেদ
১৮। শ্রীএকাদশী
১৯। নামরহস্যপটল
২০। নাম-মহিমা
বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥