![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি (সন্ধ্যা)
শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁবিষ্ণুপাদ
(১) ভগবানকে জানা, ভকগবানকে প্রীতি করা আজকে আপনারা শ্রীলগুরুমহারাজের তিরোভাব উৎসব ঠিকমত পালন করেছেন । আমার খুব আনন্দ হয় যখন আমরা গুরুদেবের উৎসব শুষ্ঠভাবে, সুন্দরভাবে পালন করতে পারি । আপনারা চলে এসেছিলেন আর যে ভাবে সেবা করেছেন, কেউ অংশ গ্রহণ করেছেন, কেউ সেবা না করতে পেরে এখানে বসে হরিকথা শ্রবণ ও কীর্ত্তন করেছেন, এতেই আমার খুশি, এতেই ভগবান্ আপনাদের কৃপা ও মঙ্গল করবেন । এটাই আমি চাই যেন আপনাদের মঙ্গল হবে । আমি অত্যান্ত খুশি হই যে, গুরুদেবের সেবা ও উৎসব যারা ভালোভাবে অংশ গ্রহণ করে আসলেন । আপনারা সবাই এই তিথিকে অবলম্বন করে এখানে উপস্থিত হয়েছেন । আপনারা মনে করছেন, “উৎসব শেষ হয়ে গেছে, মহারাজ হয়ত বলবেন যে, চলে যান ।” না । এই উৎসবের পরে পরশুদিনকেও গুরুদেব সব সময় পালন করতেন : গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি হয়ে যাওয়ার পরে আর এক দিন মাঝখানেতে পরের দিন, অর্থাৎ রবিবারে, প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের তিরোভাব তিথি । শ্রীল প্রভুপাদের ছবিটা ডান দিকে দেখতে পান । আপনারা অনেকে তাকে চিন্তা পারছেন না । গুরু-পরম্পরা সবায়ের বাড়িতে দেওয়া আছে তবে অনেকে তাঁদের নাম জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারে না । অনেকে জয় দিতে পারে না । এগুলো শিখবেন ভালো করে । একবার করে যদি গুরুবর্গের জয় দেন, সেটা কাজ নয় । প্রত্যেক দিন গুরুবর্গের জয় দিলে তাতে আপনাদের হৃদয়ে ভক্তি বসানো হবে, প্রীতি পাবেন । অনেকে গুরুবের্গের জয় দিতে পারেন না : গুরুবর্গের নাম ভালো করে ধরে জয় দিতে পারে না । গুরুদেবের নাম বললে ভালো করে বলতে পারেন না । বাড়িতে স্ত্রী, পুত্র, স্বামী, বন্ধু-বান্ধব সবায়ের নাম আপনারা ভালো করে জানেন কিন্তু গুরুবর্গের নাম ভালো করে জানেন না । এমনকি হরেকৃষ্ণ নামও ভালো করে গাইতে পারেন না । যাকগে, গুরুদেবের উৎসবে আপনারা যোগদান করেছেন । শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের তেমনই তিরভাব তিথি পরশুদিনটা । সেদিনটা আমরা মঠে যারা থাকবেন তাদেরকে নিয়ে উৎসব করব । থাকুন, কোন আপত্তি নেই । যারা থাকবেন বাড়ি-ঘড় ছেড়ে দিয়ে এসে থাকতে তো বলি না কিন্তু কয়েক দিন থাকুন । মঠে থাকুর । এই সংসারটাকে নিজের সংসারের মত মনে করুন ।
বিষয়ে যে প্রীতি এবে আছয়ে আমার । (শ্রীগীতাবলী, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর) কথার অর্থাটা বুঝুন । আমাদের বাড়ি, ঘর, স্ত্রী, পুত্র, বন্ধু-বান্ধবের প্রতি যেরকম আমরা স্নেহ ও প্রীতি করি, সেই প্রীতি যেন ভগবানের প্রতি হয় । সে দিন কবে হবে ? সে দিন ততদিন পর্যন্ত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই সংসারে বারবার করে আসতে হবে । আজকে সাধুদের কথা শুনলেন । আমি একলা বললে না হয়, বিশ্বাস হয় না, কিন্তু সব সাধুরা এক কথাই বললেন, তাই তো ? কেউ কম বলেছেন, কেউ বেশি বলেছেন, কিন্তু সবাই একই কথা বলেছেন । আমরা এই সংসারে মায়াবদ্ধ হয়ে পড়েছি :
সংসার সংসার করি মিছে গেল কাল ।
কিসের সংসার এই, ছায়াবাজী প্রায় ।
দিন যায় মিছা কাজে নিশা নিদ্রাবশে । (শ্রীকল্যাণকল্পতরু, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর)
(২) সেবার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিন [একজন ভক্তকে] ওদেরকে বলে দাও : নটার সময় । নটার সময় ক্লাস দিতে হবে । একশোটা দেশ join (যোগদান) করবে । সেখানে নটা মানে আমাদের সন্ধ্যা নটা—ওদের সকাল নটা, আজকের দিনটা । আমাদের এগিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে । আবার কোন জায়গায় ওই সময় রাত দুটো । এইজন্য গুরুমহারাজ বলতেন, “শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠে সূর্য কখনও অস্ত যায় না ।” কি রকম ? আজকে এখানে সূর্যাস্ত, কালকে ওখানে সূর্যাস্ত ; আমাদের এখন সন্ধ্যা হয়েছে আর ওদের এখন সূর্যোদয় হয়েছে । লন্ডনে এখন দুপুর বারটা-একটা আর রাত নটা সময় আমেরিকাতে সকাল নটা হবে । ওরা ওখানে তখন পঠে বসবেন আর আমি তাদের সঙ্গে কিছু হরিকথা আলোচনা করব : গুরুদেবের সম্বন্ধে ইংরেজিতে বলব । আবার ওখানে সঙ্গে সঙ্গে যা যের দেশের ভাষা সেই দেশে তারা অনুবাদ করে দিচ্ছেন । আমি যে কথাগুলা বলছি, তারা আমার ভাষা থেকে সঙ্গে সঙ্গে পরিণতি করে নিচ্ছে । এই বাংলায়ওআজ যে বলেছি, ওরা সব রেকর্ডিং তুলেছে আর সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজিতে হয়ে আবার ওয়েবসাইটে (scsmathinternational.com) চলে গেছে । যা আমি আজকে বলেছি, সব কথাগুলো, আপনাদের উৎসব, আপনাদের ছবিগুলো, আপনাদের ফটো, আপনারা ওয়েবসাইটে সব দেখতে পারবেন । সারা পৃথিবীর লোক দেখছে আজ এখানে কত লোক হয়েছে, কত লোক প্রসাদ পেয়েছে, কত লোক কি করেছে, সারা পৃথিবীর লোক ওয়েবসাইটে এখনই চলে গেছে । আজ ফটোগুলো দেখে সবাই আমাকে ফোন করে বলছে, “এত লোক হয়েছে !” এই জন্য গুরুদেব বলতেন, “শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠে সূর্য কখনও অস্ত যায় না ।” এই সূর্য অস্ত মানে এখানে সূর্যাস্ত, ওখানে সূর্যোদয় । দুপুরে আমাকে ঘরে বসে সারাক্ষণ ফোন-টোন ধরতে হল কারণ আমি সারা সকাল ফোনটা off রেখেছিলাম আর যখন চারটায় ফনটা খুলে দিয়েছে, তখন অনেক missed call (মিসড কল) দেখেছি । বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক call (কল) এসেছিল, আমি তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম । আর রাত নটার সময় আবার দুঘন্টা পঠ দিতে হবে, রাত এগারো পর্যন্ত চলবে । সব দেশের লোক কিছু কিছু আমার কাছে প্রাশ্ন করবে, তারা সব জানতে চাইবে । তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে । রবিবার দিনও প্রভুপাদের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে পঠ দিতে হবে । প্রত্যেক রবিবার এমনি পঠ দিই । সেইভাবে এই শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠ শুধু আপনাদের কয়েকজন পশ্চিমবঙ্গের লোক নিয়ে নয়—সারা পৃথিবীর লোক নিয়ে । সারা পৃথিবীর লোক নিয়ে আমাকে চলতে হয়, সারা পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে কথা বলে হয় । যে যেরকম লোক, তাদের সঙ্গে সেইরকম ব্যবহার করতে হয় । গুরুদেব সারা পৃথিবীতে গিয়ে বীজগুলো বুনিয়ে দিয়েছেন । প্রথম ISKCON-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজ লাঙ্গল চষে দিয়ে এসেছেন, তারপর গুরুদেব সেখানে গিয়ে বীজগুলো বুনে দিয়েছেন, আর তার ফলে আমরা এখন এই ফসলগুলা (ফলগুলা) পাচ্ছি । ওখান থেকে হরিকথা শুনতে শুনতে তারা এই পঠে এসে দিক্ষা নেয় । আমরা এখান থেকে দিক্ষা দিই । যেহেতু আমি বিদেশে যেতে পারচ্ছি না আর এখন লকডাউনও বাহিরে, সেহেতু তারা এই ভাবে দিক্ষা নেয় । আমি টিভির সামনে থাকি । এখানে আমাদের TV (টিভি) নাই কিন্তু কলকাতায় বড় TV screen (টিভি স্ক্রিন) লাগানো থাকে, তাই আমি টিভিতে সব দেখতে পাই । আর এখানে খুব ছোট ছোট দেখা যায় । আমি আগে মালা জপ করে পাঠিয়ে দিই আর ওখানে একজন যে মঠের in charge (ইন চার্জ—দায়িত্বে) থাকেন, সে ওখান থেকে তাদেরকে মালাটা দিয়ে দেয় । কোন মঠ থেকে পাঁচজন দিক্ষা নিল, কোন মঠ থেকে সাতজন দিক্ষা নিল, কোন মঠ থেকে দুজন দক্ষা নিল । এইরকম করে লকডাউনের মধ্যেও সহে সহে গুরুদেবের চরণে আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে । আমরা মালা পাঠিয়ে দিচ্ছি । কিছু দিন পোস্ট অফিস বন্ধ ছিল, প্লেনও বন্ধ ছিল, তখন খুব সমস্যা ছিল । তবে এখন পোস্ট অফিস চালু হয়েছে, মালা এখনও পাঠাতে হচ্ছে । এখন মালা যায় আর আমরা সঙ্গে সঙ্গে skype-এ programme (প্রোগ্র্যাম) করি । সবাইকে আপনারা চেনেন : শ্রীল জনার্দ্দন মহারাজ, শ্রীল আশ্রম মহারাজ আর অনেক বড় ভক্তেরা, তাদের সবাইকে আপনারা চেনেন কেনান তাদের সঙ্গে প্রত্যেক দিন নিয়ত সামনে সামনে যোগাযোগ হয় zoom-এর বা skype-এর মাধ্যমে । সেই ভাবে এই সারা পৃথিবীতে গুরুদেব ১৩০ মত মঠ করে দিয়ে গেছেন, আবার গুরুদেব চলে যাওয়ার পর আরো অনেক centre (কেন্দ্র) হয়েছে, বঙ্গেও হয়েছে, বঙ্গের বাহিরেও হয়েছে । এইভাবে গুরুদেবের কৃপা যদি থাকে গুরুদেবের সেবার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে হবে । মন, প্রাণ, সমস্ত উজাড় করে দিতে হবে । কবে এই আমাদের দেশীয় ভক্তগণ সেটা বুঝতে ও করতে পারবে ?
|
সম্পূর্ণ পাঠ ডাউনলোড / শুনুন | ||||||
| বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥ | |||||||
|
© Sri Chaitanya Saraswat Math, Nabadwip, West Bengal, India. For any enquiries please visit our contact page. { ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন } |
|||||||