![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
শ্রীল প্রভুপাদের তিরোভাব তিথি অধিবাস
শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁবিষ্ণুপাদ
(১) শ্রীল প্রভুপাদের আবির্ভাব
জয় ওঁ বিষ্ণুপাদ জগদ্গুরু শ্রীল ভক্তি সুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ কী
জয় ।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্ । (ভাবার্থ দীপিকা)
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া ।
গুর্ব্বাভীষ্টসুপূরকং গুরুগণৈরাশীষসংভূষিতং
দেবং দেব্যতনুং সুছন্দবদনং বালার্কচেলাঞ্চিতং
বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসন্ধুভ্য এব চ ।
বৃন্দায়ৈ তুলসীদেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ ।
অথ নত্বা মন্ত্রগুরূন্ গুরূন্ ভাগবতার্থদান্ । জয়ঃ সপরিকর-শ্রীশ্রীগুরু-গৌরাঙ্গ-গান্ধর্ব্বা-গোবিন্দসুন্দর-পাদপদ্মানাং জয়স্তু । বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ । শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ । শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ ॥
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
আমাদের গুরুপাদপদ্ম ওঁ বিষ্ণপাদ জগদ্গুরু শ্রীল ভক্তি সুন্দর গোবিন্দ দেব-গোস্বামী মহারাজের শুভ আবির্ভাব তিথি কালকে সমাপ্ত হয়েছে । নবদ্বীপ থাকলে প্রতি বছরে এই দিন বামুনপাড়ায় যেতাম । এখন বামুনপাড়ায় প্রোগ্রাম করার জায়গা নিয়ে বিরাট সমস্যা । যখন ওখানে সন্তোষ প্রভু ছিলেন, তখন তিনি সব কিছু ব্যাবস্থ করতেন, কিন্তু এখান এমন লোকজন ওখানে নেই । ওই সব আয়োজন করতে গিয়ে কে কী করবে ? এইজন্য ভক্তদের কষ্ট ও অসুবিধা হবে । তাই আমরা আর ওখানে যাই না । কালকেও ওঁ বিষ্ণুপাদ ভগবান্ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর প্রভুপাদের তিরোভাব উৎসব । শুনেছি যে, অনেকে কালকে চলে যাবে, তাই আমি এখন শ্রীল প্রভুপাদের কথা আলোচনা করব । তিনি গৌড়ীয় গগনে ভাস্কর । আমি আজকে দুপরে প্রসাদ পাওয়ার পরে কছু সময় পেয়ে এই গ্রন্থ ‘গৌড়ীয় আচার্য্য ভাস্কর শ্রীল প্রভুপাদ’ ভালো করে পড়াশোনা করেছিলাম । এই গ্রন্থ আমার কাছে কলকাতায় ছিল আর কালকে শ্রীল প্রভুপাদের তিরোভাব তাই এখানে গ্রন্থগুলো দেখছি, আছে তাদের মধ্যে । সেই ভাবে আজকে পড়াশোনার সময় পেলাম । কালকে আবার গৌড়ীয় বৈষ্ণব সঙ্গের প্রোগ্রাম, তাঁরা আমাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন । Zoomএই পঠ দিতে হবে, চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত । কালকে সন্ধ্যা class (ক্লাস) দেব আর সাতটা আমাদের অনলাইন প্রোগ্রাম চলবে । ইংরেজিতে বা বাংলায় প্রভুপাদের সম্বন্ধে বলব, কোন সমস্যা নেয় । শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের আবির্ভাবের দিনেও লকডাউন ছিল, তখন আমি কলকাতায় ছিলাম আর ওইরকমও প্রোগ্রাম করতাম । তাই, কালকে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের তিরোভাব তিথি । তিনি আমাদের পরম গুরুদেবের গুরুদেব । প্রভুপাদের বিগ্রহ আপনারা দেখতে পাবেন বিভিন্ন মঠে । গৌড়ীয় যত মঠ (ISKCON, ইত্যাদি) সবাইয়ের গুরু ছিলেন শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর । পরে শ্রীল স্বামী মহারাজের শিষ্যেরাও তাঁদের গুরু ‘প্রভুপাদ’ বলতে চেয়েছিলেন । যার তার গুরু সে প্রভুপাদ বলতে পারে, কোন অসুবিধা নেয় । কিন্তু তাতে প্রভুপাদ যেন ছোট না করা হয়, তা না হলে তাতে অপরাধ হবে । সেই জন্য ওটার নিয়ে আমি contradiction (অসঙ্গতি, প্রতিবাদ) করি না । আমি শ্রীল স্বামী মহারাজ কখন নিজেই ‘প্রভুপাদ’ বলি : শ্রীল A.C. ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজ শ্রীল প্রভুপাদ । আমি সম্মান দিতে জানি ; সকলকে সম্মান দিতে হবে । যে সবাইকে সম্মান না দিলে নিজে সম্মান পাওয়া যায় না, সেটা আমি ভালো করে জানি । সবাইকে শ্রদ্ধা করতে হবে । আমি যদি কারও ভালো না চাই, ভগবানও আমার ভালো চাইবেন না । যদি আমি সবায়ের অমঙ্গল চাই, তাহলে ভগবান্ আমারও অমঙ্গল তুলে নিয়ে আসবেন । আর আমি যদি সবায়ের মঙ্গল চাই, ভগবান্ আমার মঙ্গল দেবেন । এটা সবসময় মনে রাখতে হবে । কাউকে ছোট করার প্রয়োজন নেয় । আপনারা জানেন যে, শ্রীজগন্নাথধাম পুরীতে নারায়ণ ছাতা একটা জায়গা আছে, সেখানেই শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর আবির্ভুত হয়েছিলেন । সচ্চিদানন্দ শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর যখন নয় বছর বয়স ছিলেন, তাঁর স্ত্রী ছিল পাঁচ বছর বয়স । আগের যুগে কম বয়সে বিয়ে হত । নয় বছর ছেলে ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের বয়স আর তাঁর স্ত্রীর বয়স ছিল পাঁচ বছর । সেই সময় তাঁর বিয়ে হয়েছিল । কিছু ক্ষণ পরে প্রথম স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন, তারপর তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করলেন । সেই ঘরে এই সব সন্তানাদি হয়েছিল—তার মধ্যে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর ষষ্ঠ সন্তান রূপে ছিলেন । শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর আগে মেদিনীপুরে স্কুল মাস্টারি করতেন, তার পর ICS (ইম্পেরিয়াল সিভিল সার্ভিস—তখন ছিল ব্রিটিশ শাসন) পরিক্ষা দিয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলেন । ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা কালে তিনি দক্ষিণ দিনাজপুর যাকে বলা হয় বাংলাদেশে (আগে দিনাজপুর এক জেলা ছিল, কিন্তু বিভক্ত হওয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর হয়েছে এবং আরো কয়েক জেলা) । এই দিনাজপুরে ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কলে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর উৎসাহ প্রকাশ করেছিলেন, তিনি জানতে চেয়েছিলেন, “সত্যিকারের মহাপ্রভুর ধর্ম্মটা কী ?” মহাপ্রভুর চলে যাওয়ার পরে শ্রীল নরোত্তম দাস, শ্যামানন্দ প্রভু ও শ্রীনিবাস আচার্য্য মহাপ্রভুর ধর্ম্ম ও সিদ্ধান্ত প্রচার করতেন । কিন্তু তার পর বৈষ্ণবদেরকে লোকে নিন্দা করতে লাগল । বৈষ্ণবদের সঙ্ঘ লোকে “আখড়া” বলত । “আখড়া” শয়তানের এলাকা বলে না ? তিলকধারী মেয়ে-ছেলে খরপ সঙ্গ করত, যা সহজিয়া করে । মুসলমানের এদিকে ওরা মঠ বলে কিছু বলে না—ওরা বলে “আখড়া” । সত্যিকারের ধর্ম্মের নামে সমস্ত কিছু কলঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল । যার গায়ে তিলক দেখলে, তাকে লোকে নিন্দা করত । বৈষ্ণব ধর্ম্ম কলুষিত হয়েছিল, নোংরা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল । সেটা দেখে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ভাবলেন, “এটা চোখের দেওয়া যায় না ।”
|
সম্পূর্ণ পাঠ ডাউনলোড / শুনুন | ||||||
| বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥ | |||||||
|
© Sri Chaitanya Saraswat Math, Nabadwip, West Bengal, India. For any enquiries please visit our contact page. { ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন } |
|||||||