আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি প্রণামী ENGLISH
 

শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠের সম্পর্কে

শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠ কি ও তাঁর বৈশিষ্ট্য
শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠ কি ও তাঁর উদ্দেশ্য, প্রচার্য্য-বিষয় বা বৈশিষ্ট্যের কথা জগতে বোঝাইতে হইলে যেরূপ সুদুরূহ ব্যাপার, প্রচলিত ভাব-ধারায় বিভাবিত ও অনুপ্রাণিত বিশ্বের তাহা আংশিকভাবে উপলব্ধি করাইবার চেষ্টাও ততোধিক গুরুতর কার্য্য । কিন্তু এই মঠের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেব গোস্বামী মহারাজ ও তাঁর স্থলাভিষিক্ত সেবাইত আচার্য্য ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেব গোস্বামী মহারাজ ও তাঁর মনোনীত বর্তমান সভাপতি আচার্য্য ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তি নির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের পথ অনুসরণ করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা শুদ্ধভাবে আচার-প্রচারের মাধ্যমে ভারতসহ সারা পৃথিবীতে বদ্ধ জীবকে উদ্ধারের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন ।

 

শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠের বই ও প্রবন্ধ

"আপনারা সব সময় ভগবৎ-কীর্তন, ভগবৎ-কথা শ্রবণ-কীর্তন করবেন । আমরা গুরুদেবকে কোথায় পাব ? গুরুদেব ত’ চলে গিয়েছেন । তবু আমরা গুরুদেবের গ্রন্থ পড়ে গুরুদেবের সঙ্গ লাভ করতে পারি । আমি যখন এখান থেকে চলে যাব, আপনারা কোথায় সঙ্গ লাভ করবেন ? আমার গ্রন্থগুলো আছে—এই গ্রন্থগুলো পড়ে প্রত্যেক দিন গুরুদেবকে দর্শন করতে পারবেন এবং গুরুদেবের সঙ্গ লাভ করতে পারবেন ।"

“যে আমাদের গুরুদেব সমস্ত পৃথিবীতে বলে দিয়েছেন, যে তিনি আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন (তাঁর বইগুলো, তাঁর অডিও- ও ভিডিও-বক্তৃতাগুলো), সেটাকে আমাদের অপরকে বিতরণ করতে হবে । যে আমরা বানান বা আবিষ্কার করি, সেটাকে বিতরণ করা উচিৎ নয় । যে গুরুদেব বানান বা আবিষ্কার করেছেন, সেটাকে বিতরণ করুন—সেটাই যথেষ্ট, সেটা করলে জগতের জীবগুল মঙ্গল লাভ করতে পারে ।”

“আমাদের এতগুলো বই আছে কিন্তু আমরা পড়ি না । আমরা বইগুলো ছাপিয়েছি পেপার প্লেট বা চানাচুর-সিঙ্গারার ঠোঙার জন্য নয় ! যখন সময় পান, ওই বইগুলো পড়ুন । সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।”

“আমরা বড় বা ঐশ্বর্যবান হতে চাই না, আমরা অনুকরণকারী হতে চাই না—আমরা আসল জিনিস চাই । সেইজন্য আপনাদের ধারণাটা বুঝতে হবে । শ্রীলশ্রীধর মহারাজ ও শ্রীলগুরুদেবের বইগুলো পড়তে হবে, তাহলে আপনারা কিছু বুঝতে পারবেন । আমি অনেক সময় বলেছি—যখন সময় পান, পড়ুন । গ্রান্থ পড়তে পড়তে আসল ধারণাটা কী সেটা বুঝতে চেষ্টা করুন ।”

“শ্রীলশ্রীধর মহারাজ ও শ্রীলগুরুদেবের অনেক বইগুলো আছে—আমাদের শিক্ষা বা ধারণাটা তাদের মধে রাখা হয় । তাই আপনাদের আসল খাদ্যটা আছে ।”

“গুরু সব সময় আমাদের পাশেই থাকেন, তিনি আমাদের সব সময় উপদেশ দেন । তাঁর উপদেশ, তাঁর কথা স্মরণ করলে, তাঁর বইগুলো পড়লে, তা দ্বারা আমরা সব সময় তাঁর সঙ্গ লাভ করতে পারি । আপনারা সেতা সহজে বুঝতে পারেন ।”

“যখন সময় পান, গুরুদেবের বইগুলো পড়ুন । যদি ভাবেন, 'বই পড়ে কোন রুচি পাই না' তাহলে বুঝতে পারেন যে, ভিতরে আপনাদের হৃদয়ের মধ্যে অপরাধের বীজ রয়েছে ।”

(ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের মুখনিঃসৃত হরিকথামৃত বাণী)

 

ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীলভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ
  
ভগবান্ শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর মহাশয় অন্যান্য গ্রন্থপ্রকাশ

 


 

শ্রীগুরুপাদপদ্মের শেষ-কথা (ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তি নির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের হরি-কথামৃত)
[২ মে ২০২১] "এটা যুদ্ধক্ষেত্র । আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কখনও পালিয়ে যাব না—আমরা দাঁড়িয়ে থাকব আর মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব । সর্বত্রই দেখতে পাবেন যে, অসুররা সব সময় সাধুর দ্বারা পরাজিত হন । যেদিকে সাধু, সেইদিকে সব সময় ওঁ থাকে । দয়া করে নিজেদের দেখাশোনা করুন । এই অবস্থায় সকলের নিজেই সাধন করতে হয়, নিরুৎসাহিত হন না ।"

 

নিজের দীক্ষাগুরু যদি অপ্রকট হন, সে অবস্থায় সাধক-শিষ্যের কিভাবে সাধনপথে অগ্রসর হতে হবে, এ সমস্যা সাধকজীবনে আসা স্বাভাবিক ।

পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সবসময় অনুকূল থাকে না, সময়ে সময়ে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে । বিশেষত দীক্ষা গুরুদেব যদি হঠাৎ অপ্রকট হয়ে যান, তবে শিষ্য-সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক । শিষ্যদের মধ্যে বিবাদ ও সংঘাত দেখা যায় । ঐ প্রকার পরিস্থিতিতে ঐকান্তিক আগ্রহযুক্ত সাধকশিষ্য যথেষ্ট বিবেচনা ধৈর্য্য ও ভজনানুকূল সূক্ষ্মবিচার বোধের দ্বারা পরিচালিত না হলে বিপদ আছে । এটা ত’ একটা পরীক্ষার সময়, আত্মসমীক্ষ বা আত্মনিক্ষেপের অবসর । আমরা এ যাবৎ শ্রীগুরুদেবের কাছ থেকে যে সমস্ত নির্দেশ উপদেশ লাভ করেছি, তার যথার্থ মর্ম কতটা গ্রহণ করতে পেরেছি, তারই এটা পরিক্ষার সময় । আমরা কেবল কতগুলি স্থূল আচার বিধি-নিষেধের মধ্যে নিজেকে চালিত করে পরমার্থ সাধন হয়ে গেল, গুরুসেবা হয়ে গেল বলে নিশ্চিত থাকছি, না কৃষ্ণকৃপার জন্য উত্তরোত্তর আন্তরিক আর্ত্তি, ব্যাকুলতা বৃদ্ধি হওয়ার সাধন করছি, তাঁর ও শাস্ত্রের সদুপদেশগুলি নিজ আচরণে গ্রহণ করবার প্রয়াস করছি, তারই জমা খরচের হিসাব নিকাশের সময়, এ সব বিচার করতে হবে । সৎ শিষ্য-সাধক ও শিষ্য-সাধক বেশধারী কপট বৈষ্ণব ত’ এককথা নয়। গুরু ও শাস্ত্রের উপদেশ আমাদের অন্তরে কতটা গভীর রেখাপাত করেছে, তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার । আমরা প্রকৃত শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছি না শিষ্যের অভিনয় মাত্র করেছি, তার পরীক্ষার সময় ত’ এইটাই, এটা ত’ আগুন, এই আগুনে নকল শিষ্য পুড়ে ছাই হয়ে যাবে ।

আর আসল শিষ্য আরও উজ্জ্বল হয়ে সকলের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে দাঁড়াবে ।

সুতরাং ঐ প্রকার বিড়ম্বিত পরিস্থিতিতে আমাদের ভত পাওয়ার কিছুই নাই । কৃষ্ণ আবার গীতায় বলছেন, “সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম্ ।” আনাড়ি কর্মকার নিজ হাতিয়ার গুলির উপরও রাগ দেখায় । আমাদের কর্ম আমাদের সম্মুখে উপস্থিত । আমাদের ঘিরে ফেলেছে । এই অসুবিধাগুলো ত’ আমাদের কর্মেরই ফল । যা এড়ান যায় না তার মোকাবিলা করাই ত’ যথার্থ যোদ্ধার পরিচয় ।

এ প্রকার পরিস্থিতিতে আমাদের নিজের মধ্যে জিজ্ঞাসা হওয়া দরকার । আমি কোথায় আছি ? আমার প্রকৃত প্রয়োজনটা কি ? বাস্তব বস্তু লাভের জন্য আমার কতটুকু আর্ত্তি এসেছে ? এই সব প্রশ্নের মীমাংসা ত’ নিজের ভিতরেই করতে হবে । এইটাই ত’ প্রকৃত সাধনার বেলা । সাধনে প্রগতির প্রমাণই ত’ এইসব বাধা বিপত্তি ।

আমাদের শোধন করে নির্মল করার জন্য এই প্রতিবন্ধকগুলির সার্থকতা আছে, তাই এসেছে । পরীক্ষা না এলে প্রগতি বুঝা যায় না । আমরা এ যাবৎ প্রকৃত শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছি, না লাভ পূজা প্রতিষ্ঠার জন্য শিষ্যত্বের অভিনয় মাত্র করেছি, তার অগ্নিপরীক্ষা এসেছে, তাই সৎসাধকের, প্রকৃত শিষ্যের এতে ভয় হয় না, সে আরও উৎসাহ ও নিশ্চয়তার সহিত ধৈর্য্যের সহিত সাধনে একনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে ।

ভগবানের কোন ভুল হয় না । সমগ্র সৃষ্টিকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন । এটা আমাদের দায়িত্ব নয় । আমি যদি নিষ্কপট হই তবে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইতে চলতে হবে, আমরা প্রকৃত দেশপ্রেমী কি না তাত’ যুদ্ধক্ষেত্রেই পরীক্ষা হয় । আমি সাধু-গুরু, গৌর, কৃষ্ণ, রাধাগোবিন্দ, এঁদের শরণাগত । পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি এঁদের ছেড়ে যাচ্ছি না । সকলেই আমাকে ত্যাগ করে চলে যেতে পারে, আমি কিন্তু আমার নিষ্ঠায় শরণাগতিতে অবিচলিত থাকব । তা হলে গুরুবর্গ অদৃশ্য থেকেই আমার উপর তাঁদের শুভাশীষের ধারা বর্ষণ করবেন ।

আমাদের নিজের আত্মসমীক্ষ করা দরকার যে আমরা কি পরিমাণে স্বার্থপর ? আমাদের মধ্যে আমাদের পূর্ব অনভিপ্রেত খারাপ অভ্যাস বা “অনর্থ” এখনও কতটা আমাদের হৃদয়ে থাকছে । কর্ম, জ্ঞান, মনের বাসনা এবং অন্যান্য অপবিত্র চিন্তা আমাদের মধ্যে থেকে আমাদের ভক্তিপথের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সঙ্গে কতটা মিশে রয়েছে । সেগুলি সবই বেরিয়ে আসা চাই এবং সেগুলি দূরীভূত হওয়া চাই । আমরা যদি সত্যিই ভাল চাই, তা হলে কেউ তাতে বাধা দিতে পারে না । এই প্রকার মনোবৃত্তি নিয়ে আমরা এগিয়ে গেলে তখন বুঝতে পারব কোনটা কি ?

(শ্রীল ভক্তি রক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ, শ্রীগুরুদেব ও তাঁর করুণা)

 

শ্রীশ্রীগুরু-গৌরাঙ্গৌ জয়তঃ

মাননীয় বৈষ্ণবগণ, ভক্তগণ ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ,

আপনাদের শ্রীচরণে দণ্ডবৎ প্রণাম জানাই ।

গভীর বেদনা ও দুঃখের সাথে আমরা সংবাদ দিতে বাধ্য যে, আমাদের প্রিয়তম শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁ বিষ্ণুপাদ জগদ্­গুরু শ্রীল ভক্তি নির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ তাঁর অচিন্ত্য লীলার দ্বারা শ্রীমধুসূদন মাসের শ্রীকৃষ্ণ-চতুর্দ্দশীর তিথিকে (১০ মে ২০২১) অলঙ্কৃত করে এই দিনটা অবলম্বন করেছেন এই পৃথিবী থেকে অপ্রকট হয়ে যাওয়ার জন্য । হাসপাতালে চিকিত্সা পাওয়ার সময় শ্রীগুরুপাদপদ্ম ভোর বেলায় ৪টা সময় শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর প্রকটলীলা সমপ্ত করে দিয়ে তাঁর অপ্রকট নিত্যলীলা প্রবেশ করেছেন । শ্রীগুরুপাদপদ্মের শ্রীনিত্যদেহ তাঁর প্রিয় ধাম শ্রীএকচক্রায় পৌছে দেওয়ার পর তাঁর সমাধি ব্যবস্থা করা হল ।

দয়া করে আপনারা নিজেদের ও পরস্পরের দেখাশোনা করুন এবং যেকোন ভাব নিজেদের মধ্যে শক্ত সংগ্রহ করুন এই বিপর্যয় ­ও বেদনাদায়ক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবং দয়া করে পরস্পরকে সহায়তা করতে চেষ্টা করুন যেন, আমরা সকলই মিলে এই করুণ অবস্থার মধ্যে জীবন চলতে পারব—এই প্রার্থনা আমরা শ্রীচৈতন্যসারস্বত মঠের সমস্ত ভক্তগণের শ্রীচরণে ভিক্ষা করছি ।

বিণীত—
শ্রীগুরুপাদপদ্মের scsmathinternational.com-এর পক্ষে

 

“যাঁরা সাহায্য করছেন এবং আমার গুরুমহারাজকে সহায়তা করছেন, যাঁরা গুরুমহারাজের মঠগুলির সেবা করছেন, তাঁদের আমি বলছি যে, আমি চিরকাল ধরে আপনাদের পাশেই থাকব, আমি সব সময় আপনাদের পাশেই থাকি—যেখানে আমি যাব, যেখানে আমি আছি, আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যাব । যদিও মরে যাব, তবুও আমি আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যাব । কত দিন ধরে আমি এই পৃথিবীতে থাকব, সেটা আমি জানি না—কত দিন ধরে আপনারাও এই পৃথিবীতে থাকবেন, সেটা আপনারাও জানেন না, কিন্তু আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গেই থাকব, আমি চিরকাল ধরে আপনাদের দেকাশোনা করব ।”

(শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের মুখনিঃসৃত হরিকথামৃত বাণী)

 

 

 

 

 

অসৎসঙ্গ ও নিত্য স্মরণ
'দিন, রত্র, সব সময় হরিভজন করবেন । সর্ব্বাঙ্গ দিয়ে ভগবানের সেবা করবেন—দেহ, মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার, যা কিছু আছে সমস্ত কিছু ভগবানের চরণে সমর্পণ করতে হবে । সমস্ত দুঃখ, জ্বালা, যন্ত্রনা, যা কিছু থাকবে, সব কিছু ভগবানের চরণে ছুড়ে দিতে হবে ।'

      

শ্রীগৌড়ীয়-পর্ব্ব-তালিকা

কেশব | অগ্রহায়ণ | নভেম্বর মাস

১২ কেশব, ৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, রবিবার, কৃষ্ণ-একাদশী । উত্পন্না একাদশী ব্রতের উপবাস । শ্রীযুক্ত ধনঞ্জয় দাস প্রভুর নির্য্যাণ । উঃ ৫।৫৮ অঃ ৪।৪৮ ।

১৩ কেশব, ৪ অগ্রহায়ণ, ২১ নভেম্বর, সোমবার, কৃষ্ণ-দ্বাদশী । একাদশীর পারণ : ৫।৫৯–৭।৩২ । শ্রীল নরহরি সরকার ঠাকুর ও শ্রীল কালিয় কৃষ্ণদাসের তিরোভাব উৎসব । উঃ ৫।৫৯ অঃ ৪।৪৮ ।

১৪ কেশব, ৫ অগ্রহায়ণ, ২২ নভেম্বর, মঙ্গলবার, কৃষ্ণ-ত্রয়োদশী । শ্রীল সারঙ্গ ঠাকুরের তিরোভাব । উঃ ৬।০০ অঃ ৪।৪৮ ।

১৫ কেশব, ৬ অগ্রহায়ণ, ২৩ নভেম্বর, বুধবার, কৃষ্ণ-চতুর্দ্দশী । উঃ ৬।০১ অঃ ৪।৪৭ ।

১৬ কেশব, ৭ অগ্রহায়ণ, ২৪ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, গৌর-প্রতিপদ । (পূর্ব্বদিনের অমাবস্যা তিথি চতুর্দ্দশয়ী সূর্য্যোদয় বিদ্ধা হওয়ায়) অদ্য শ্রেষ্ঠার্য্য শ্রীল জগবন্ধু ভক্তিরঞ্জনের তিরোভাব । উঃ ৬।০১ অঃ ৪।৪৭ ।

২১ কেশব, ১২ অগ্রহায়ণ, ২৯ নভেম্বর, মঙ্গলবার, গৌর-ষষ্ঠী । শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের ওড়নষষ্ঠী । শ্রীধাম পুরীতে শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে শ্রীশ্রীনিতাই-চৈতন্য বিগ্রহগণের প্রাকট্য মহোৎসব । উঃ ৬।০৪ অঃ ৪।৪৭ ।

ডিসেম্বর মাস

২৩ কেশব, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, গৌর-অষ্টমী । সূর্য্যকুণ্ডবাসী শ্রীল মধুসূদন দাস বাবাজী মহারাজের তিরোভাব । উঃ ৬।০৫ অঃ ৪।৪৮ ।

২৪ কেশব, ১৫ অগ্রহায়ণ, ২ ডিসেম্বর, শুক্রবার, গৌর-নবমী । ত্রিদণ্ডিস্বামী শ্রীমদ্ভক্তিকমল মধুসূদন মহারাজের আবির্ভাব । উঃ ৬।০৬ অঃ ৪।৪৮ ।

২৫ কেশব, ১৬ অগ্রহায়ণ, ৩ ডিসেম্বর, শনিবার, গৌর-দশমী । ত্রিদণ্ডিস্বামী শ্রীমদ্ভক্তিকুসুম শ্রমণ মহারাজের তিরোভাব । উঃ ৬।০৬ অঃ ৪।৪৮ ।

২৬ কেশব, ১৭ অগ্রহায়ণ, ৪ ডিসেম্বর, রবিবার, গৌর-একাদশী । মোক্ষদা একাদশী ব্রতের উপবাস । উঃ ৬।০৭ অঃ ৪।৪৮ ।

২৭ কেশব, ১৮ অগ্রহায়ণ, ৫ ডিসেম্বর, সোমবার, গৌর-দ্বাদশী । একাদশীর পারণ : ৬।০৮–৬।৫৫ । উঃ ৬।০৮ অঃ ৪।৪৮ ।

২৯ কেশব, ২০ অগ্রহায়ণ, ৭ ডিসেম্বর, বুধবার, গৌর-চতুর্দ্দশী । উঃ ৬।০৯ অঃ ৪।৪৯ ।

৩০ কেশব, ২১ অগ্রহায়ণ, ৮ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা । উঃ ৬।১০ অঃ ৪।৪৯ ।

নারায়ণ মাস

২ নারায়ণ, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১০ ডিসেম্বর, শনিবার, কৃষ্ণ-দ্বিতীয়া । ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্যবর্য্য অষ্টোত্তরশতশ্রী শ্রীমদ্ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজের শুভ আবির্ভাব মহামহোৎসব । উঃ ৬।১১ অঃ ৪।৪৯ ।

৩ নারায়ণ, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১১ ডিসেম্বর, রবিবার, কৃষ্ণ-তৃতীয়া । 
ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীমদ্ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজের আবির্ভাব পীঠ ও শৈশবকালীন পীঠ যথাক্রমে শ্রীপাট বামুনপাড়া ও শ্রীপাট নাদনঘাটে মহামহোৎসব । উঃ ৬।১২ অঃ ৪।৫০ ।

৪ নারায়ণ, ২৫ অগ্রহায়ণ, ১২ ডিসেম্বর, সোমবার, কৃষ্ণ-চতুর্থী । ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদের তিরোভাব মহোৎসব । উঃ ৬।১২ অঃ ৪।৫০ ।


পৌষ মাস—৩০ দিন

১০ নারায়ণ, ২ পৌষ, ১৮ ডিসেম্বর, রবিবার, কৃষ্ণ-দশমী । উঃ ৬।১৭ অঃ ৪।৫১ ।

১১ নারায়ণ, ৩ পৌষ, ১৯ ডিসেম্বর, সোমবার, কৃষ্ণ-একাদশী । সফলা একাদশীর ব্রতের উপবাস । শ্রীল দেবানন্দ পণ্ডিত ও শ্রীমদ্ভক্তিপ্রকাশ অরণ্য মহারাজের তিরোভাব । উঃ ৬।১৭ অঃ ৪।৫২ ।

১২ নারায়ণ, ৪ পৌষ, ২০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, কৃষ্ণ-দ্বাদশী । একাদশীর পারণ : ৬।১৮–৯।৪৯ । শ্রীপাদ ভক্তিভূদেব শ্রৌতি মহারাজের তিরোভাব । উঃ ৬।১৮ অঃ ৪।৫২ ।

১৩ নারায়ণ, ৫ পৌষ, ২১ ডিসেম্বর, বুধবার, কৃষ্ণ-ত্রয়োদশী । শ্রীল মহেশ পণ্ডিত ও শ্রীল উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুরের তিরোভাব । উঃ ৬।১৯ অঃ ৪।৫২ ।

১৪ নারায়ণ, ৬ পৌষ, ২২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, কৃষ্ণ-চতুর্দ্দশী । উঃ ৬।২০ অঃ ৪।৫২ ।

১৫ নারায়ণ, ৭ পৌষ, ২৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার, অমাবস্যা । উঃ ৬।২০ অঃ ৪।৫৩ ।

১৬ নারায়ণ, ৮ পৌষ, ২৪ ডিসেম্বর, শনিবার, গৌর-প্রতিপদ । শ্রীল লোচনদাস ঠাকুরের আবির্ভাব । উঃ ৬।২১ অঃ ৪।৫৩ ।

১৮ নারায়ণ, ১০ পৌষ, ২৬ ডিসেম্বর, সোমবার, গৌর-তৃতীয়া । শ্রীল জীব গোস্বামী প্রভুর ও শ্রীল জগদীশ পণ্ডিতের তিরোভাব । উঃ ৬।২২ অঃ ৪।৫৪ ।

 

      

 

 

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥