আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি ENGLISH
 

{ ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন }

ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তি নির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের হরিকথা :

 

১৮ মে ২০২৬

গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি : সেবার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিন
(পর্ব-২ | ১ জানুয়ারি ২০২১, সন্ধ্যা)
"এই শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠ শুধু আপনাদের কয়েকজন পশ্চিমবঙ্গের লোক নিয়ে নয়—সারা পৃথিবীর লোক নিয়ে । সারা পৃথিবীর লোক নিয়ে আমাকে চলতে হয়, সারা পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে কথা বলে হয় । গুরুমহারাজ বলতেন, “শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠে সূর্য কখনও অস্ত যায় না ।” কি রকম ?"

 

—{ শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠের গ্রন্থাগার }—

উপদেশ (প্রথম খণ্ড)

৭। ভগবানের কৃপা ও আপনার চেষ্টা
"আমরা নিজেই নিজের বন্ধু, নিজেই নিজের শত্রু । কে আপনাদের উপকার করতে পারেন যদি আপনারা নিজেকে উপকার করতে না পারেন ? আপনারা যদি ভগবানের দিকে এক পা এগিয়া যান, ভগবান আপনাদের দিকে দশ পা এগিয়া আসবেন ।"

৮। ভগবানের চরণে গতি
"দিন তো চলে যাবে । সময় ফুরিয়ে আসবে, তখন চলে যেতে হবে কিন্তু কতটা গুরু-বৈষ্ণব-ভগবানের সেবা আমরা করতে পারব বা পেরেছি ? কতটা ভগবানের সেবার দিকে নিজেকে নিযুক্ত করতে পারলাম ? সেইটা সবসময় চিন্তা করতে হবে ।"

 

 

১৪ মে ২০২৬ (শ্রীল বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের আবির্ভাব)

শ্রীল বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের বাল্যলীলাভূমি
(শ্রীনবদ্বীপধাম-মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা থেকে)
"বর্দ্ধমান-জেলার পূর্ব্বাংশে পূর্ব্বস্থলী-থানার অন্তর্গত মামগাছী-নামে একটী প্রাচীন পল্লী অদ্যাপি বর্ত্তমান আছে । এই মামগাছী-গ্রামকে প্রাচীনগণ ও ‘ভক্তরত্নাকরে’র লেখক নবদ্বীপের অন্তর্গত মোদদ্রুম-দ্বীপ বলিয়া নির্দ্দেশ করেন । মামগাছী-গ্রামের প্রান্তদেশেই ভাগীরথী প্রবহমান । এই গ্রামে এখনও ঠাকুর শ্রীবৃন্দাবনদাসের সেবা শ্রীগৌরনিত্যানন্দের শ্রীমূর্ত্তির নিত্যপূজা সাধিত হইতেছে । কথিত হয় যে, ঠাকুর বৃন্দাবন এইগ্রামে জন্ম-গ্রহণ করেন । আজও বৃন্দাবনদাসের বাল্যকালের বিচরণভূমি বলিয়া ঠাকুর মহাশয়ের বাড়ীটি নির্দ্দিষ্ট হয় ।"

 

 

১১ মে ২০২৬

গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি : ভগবানকে জানা, ভকগবানকে প্রীতি করা
(পর্ব-১ | ১ জানুয়ারি ২০২১, সন্ধ্যা)
"আপনারা চলে এসেছিলেন আর যে ভাবে সেবা করেছেন, কেউ অংশ গ্রহণ করেছেন, কেউ সেবা না করতে পেরে এখানে বসে হরিকথা শ্রবণ ও কীর্ত্তন করেছেন, এতেই আমার খুশি, এতেই ভগবান্ আপনাদের কৃপা ও মঙ্গল করবেন । এটাই আমি চাই যেন আপনাদের মঙ্গল হবে । এই সংসারটাকে নিজের সংসারের মত মনে করুন ।"

গৌড়ীয়ে প্রীতি (ভগবান ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদের হরি-কথামৃত)
"গৌড়ীয় ভাষার পাঠক, গৌড়-দেশের অধিবাসি, তোমাদিগের আচার, ব্যবহার, ভাষা, রুচি, নীতি ও ধর্ম্মবিশ্বাস গৌড়ীয়ের মত হওয়াই প্রার্থনীয় । তোমাদের গৌড়ীয় পরিচয়ে যাহা কিছু অগৌড়ীয়ের মত আছে বা হ’তে চলিয়াছে, তাহা ক্রমশঃ পরিহার করিয়া গৌড়ীয়ের আদর্শ সমগ্রজগতের দেখ্­বার মত কর ।"

 

—{ শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠের গ্রন্থাগার }—

উপদেশ (প্রথম খণ্ড)

৫। ভোগীও নই ত্যাগীও নই
"চত্যাগটাকেও ত্যাগ করতে হবে । আপনারা কার জিনিস ত্যাগ করবেন ? যেটা আপনার নয়, সেটা ত্যাগ করতে পারেন না । আপনারা ভার্যা গ্রহণ করলেন, সব গ্রহণ করলেন, আর এখন সব ছেড়ে দিয়ে জঙ্গলে চলে যাবেন ? না ।"

৬। শ্রবণ-কীর্ত্তনে মতি
"আমাদের কাজ হচ্ছে শ্রবণম্ ও কীর্ত্তনম্ । আমাদের কখন চলে যেতে হবে আমরা সেটা জানি না । যে কোন মুহূর্তে আমরা চলে যেতে পারি । আমরা এখন—এই মুহূর্তেও—চলে যেতে পারি, সময় একটুও দেবেন না কিন্তু আমাদের বিশ্বাস নেই । 'কৃষ্ণকীর্ত্তন করতে করতে আমি কখন পাগল হয়ে যাব ? কবে আমার সেই দিন আসবে ? কখন কৃষ্ণকীর্ত্তন করতে করতে আমার হৃদয় থেকে অন্য জিনিস দূরীভূত হয়ে যাবে ?!'"

 

 

৩০ এপ্রিল ২০২৬ (ভগবান্ শ্রীনৃসিংহদেবের আবির্ভাব—সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস, তারপর অনুকল্প)

শ্রীনৃসিংহদেবের কথা ("শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা" থেকে)
"সাধারণ বুদ্ধিতে (বিষয়-আসক্তি বুদ্ধি, ভুক্তি-মুক্তি-সিদ্ধি, ধর্ম্ম-অর্থ-কাম-মক্ষার বুদ্ধি দিয়ে) নৃসিংহদেবের শিক্ষা বোঝা যাবে না । শুদ্ধ ভক্তি লাগে, সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ লাগে । ভগবানের কাছ থেকে চাওয়ার বাসনা কেটে যেতে হবে । ভগবানের কাছ থেকে নিজের ইন্দ্রিয়তর্পণ করবার জন্য আমরা সবসময় এই চাই, সেই চাই—এইটা বন্ধ করতে হবে । এইটা হচ্ছে মূল শিক্ষা এখানে ।"

শ্রীশ্রীনৃসিংহ-চতুর্দ্দশী (১৯৯০ সাল)
শ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান শ্রীশ্রীনৃসিংহদেবের লীলা আর মহিমা বর্ণনা করিতেছেন এবং শ্রীমদ্ভাগবতম্ থেকে পড়িতেছেন ।
ডাউনলোড / শুনতে (27.5 Mb, 81 min)

 

—{ শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠের গ্রন্থাগার }—

উপদেশ (প্রথম খণ্ড)

৩। মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে
"চোখটাই ভালো প্রথমই ছিল কিন্তু যদি একটা ছানি পড়ে যায়, তখন ছানি না কেটে কিছু দেখতে পাব না । কানও এরকম—বুড়ো হয়ে গেলে ভালো শুনতে পাব না । পায়ে যদি ব্যথা হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন জায়গায়, ধাম পরিক্রমা, তুলসী পরিক্রমাও করতে পারব না । এগুলো সব ভগবান্ আমাদেরকে দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা কি করলাম ? মায়ার কবলে পতিত হয়ে পড়লাম…"

৪। জীবের প্রকৃত দয়া কী ?
"গৃহস্থ ব্যক্তিকে আমি বারবার বলি যে, সময় পেলে আশ্রমে গিয়ে, মঠে গিয়ে সেবা করবেন । সময় নষ্ট করবেন না—হরিগুরুর সঙ্গে যেতে থাকুন, ভক্তগণের সঙ্গে যেতে থাকুন । দেখুন কত সুন্দর করে শ্রীমদ্ভাগবতে লেখা হয় ।"

 

 

২৭ এপ্রিল ২০২৬ (মোহিনী একাদশী ব্রতের উপবাস)

গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি (পর্ব-৭ | ১ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর)
"আমরাও সেইরকম সেবক হয়েছি । গুরুদেবের কথা না শুনলে আমাদের ওই ছলনা-শিষ্যের মত গতি হবে । আমরা সবাই বিষয়ের দিকে ধাবিত হই, গুরুদেবের শুধু বিষয়ের সম্পত্তির চিন্তা করি, কিন্তু গুরুদেবের সম্পত্তি বলতে মঠ, মন্দির, দালান, বাড়ি নয় ! প্রভুপাদ বলেছেন যে, গুরুদেবের সম্পত্তি বলতে শ্রদ্ধা, ভক্তি, প্রেম ।"

 

—{ শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠের গ্রন্থাগার }—

উপদেশ (প্রথম খণ্ড)

১। ভক্তির অভাব
"মঠ-আশ্রমে না থাকলে গৃহস্থ-আশ্রমে থেকে গৃহস্থ-আশ্রমের ক্রিয়া-কার্য করেও গুরু-বৈষ্ণব-ভগবানের সেবা করা যায়, কিন্তু গৃহস্থ আশ্রমে থাকলে যদি সবসময় গৃহের চিন্তা করেন, তখন ফলটা খুবই খারাপ ।"

২। গৃহে আবদ্ধ
"গৃহস্থ ব্যক্তিকে আমি বারবার বলি যে, সময় পেলে আশ্রমে গিয়ে, মঠে গিয়ে সেবা করবেন । সময় নষ্ট করবেন না—হরিগুরুর সঙ্গে যেতে থাকুন, ভক্তগণের সঙ্গে যেতে থাকুন । আপনারা গৃহে থাকেন, কিন্তু গৃহে থেকে কি করতে হবে ?"

 

 

২০ এপ্রিল ২০২৬ (অক্ষয়-তৃতীয়া)

গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি (পর্ব-৬ | ১ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর)
"গুরু মহারাজ সারা পৃথিবীতে প্রায় ১০০টা দেশে ১৩০ মঠ স্থাপন করেছেন । তিনি ২৪ বার ১০০ দেশে (একবারে ২৫-৩০ দেশে) world tour (ওয়ার্ল্ড টুর) করেছেন আর আমি দেখেছি কি করে তিনি ওই বিদেশের লোককে এই পাথে নিয়ে এসেছেন ।"

 

—{ শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠের গ্রন্থাগার }—

উপদেশ (প্রথম খণ্ড)

সূচনা : আমাদের একমাত্র কৃত্য
"হরিনাম করতে হবে কিন্তু মনের মধ্যে কুটীনাটি দেখে নয়—সরল ভাবে । সরল ভাবে গোরা ভজনা করুন, তবে আপনারা ভগবানকে লাভ করতে পারবেন । কুটীনাটি বাদ দিয়ে সরল ভাবে বৈষ্ণবের সেবা যদি করেন, তাহলে দেখবেন আপনারা ভগবানকে লাভ করতে পারেন এবং কোন দিন আর এই জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি ভোগ করতে হবে না ।"

 

 

 

 

 

 

নিজের দীক্ষাগুরু যদি অপ্রকট হন, সে অবস্থায় সাধক-শিষ্যের কিভাবে সাধনপথে অগ্রসর হতে হবে, এ সমস্যা সাধকজীবনে আসা স্বাভাবিক ।

পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সবসময় অনুকূল থাকে না, সময়ে সময়ে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে । বিশেষত দীক্ষা গুরুদেব যদি হঠাৎ অপ্রকট হয়ে যান, তবে শিষ্য-সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক । শিষ্যদের মধ্যে বিবাদ ও সংঘাত দেখা যায় । ঐ প্রকার পরিস্থিতিতে ঐকান্তিক আগ্রহযুক্ত সাধকশিষ্য যথেষ্ট বিবেচনা ধৈর্য্য ও ভজনানুকূল সূক্ষ্মবিচার বোধের দ্বারা পরিচালিত না হলে বিপদ আছে । এটা ত’ একটা পরীক্ষার সময়, আত্মসমীক্ষ বা আত্মনিক্ষেপের অবসর । আমরা এ যাবৎ শ্রীগুরুদেবের কাছ থেকে যে সমস্ত নির্দেশ উপদেশ লাভ করেছি, তার যথার্থ মর্ম কতটা গ্রহণ করতে পেরেছি, তারই এটা পরিক্ষার সময় । আমরা কেবল কতগুলি স্থূল আচার বিধি-নিষেধের মধ্যে নিজেকে চালিত করে পরমার্থ সাধন হয়ে গেল, গুরুসেবা হয়ে গেল বলে নিশ্চিত থাকছি, না কৃষ্ণকৃপার জন্য উত্তরোত্তর আন্তরিক আর্ত্তি, ব্যাকুলতা বৃদ্ধি হওয়ার সাধন করছি, তাঁর ও শাস্ত্রের সদুপদেশগুলি নিজ আচরণে গ্রহণ করবার প্রয়াস করছি, তারই জমা খরচের হিসাব নিকাশের সময়, এ সব বিচার করতে হবে । সৎ শিষ্য-সাধক ও শিষ্য-সাধক বেশধারী কপট বৈষ্ণব ত’ এককথা নয়। গুরু ও শাস্ত্রের উপদেশ আমাদের অন্তরে কতটা গভীর রেখাপাত করেছে, তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার । আমরা প্রকৃত শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছি না শিষ্যের অভিনয় মাত্র করেছি, তার পরীক্ষার সময় ত’ এইটাই, এটা ত’ আগুন, এই আগুনে নকল শিষ্য পুড়ে ছাই হয়ে যাবে ।

আর আসল শিষ্য আরও উজ্জ্বল হয়ে সকলের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে দাঁড়াবে ।

সুতরাং ঐ প্রকার বিড়ম্বিত পরিস্থিতিতে আমাদের ভত পাওয়ার কিছুই নাই । কৃষ্ণ আবার গীতায় বলছেন, “সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম্ ।” আনাড়ি কর্মকার নিজ হাতিয়ার গুলির উপরও রাগ দেখায় । আমাদের কর্ম আমাদের সম্মুখে উপস্থিত । আমাদের ঘিরে ফেলেছে । এই অসুবিধাগুলো ত’ আমাদের কর্মেরই ফল । যা এড়ান যায় না তার মোকাবিলা করাই ত’ যথার্থ যোদ্ধার পরিচয় ।

এ প্রকার পরিস্থিতিতে আমাদের নিজের মধ্যে জিজ্ঞাসা হওয়া দরকার । আমি কোথায় আছি ? আমার প্রকৃত প্রয়োজনটা কি ? বাস্তব বস্তু লাভের জন্য আমার কতটুকু আর্ত্তি এসেছে ? এই সব প্রশ্নের মীমাংসা ত’ নিজের ভিতরেই করতে হবে । এইটাই ত’ প্রকৃত সাধনার বেলা । সাধনে প্রগতির প্রমাণই ত’ এইসব বাধা বিপত্তি ।

আমাদের শোধন করে নির্মল করার জন্য এই প্রতিবন্ধকগুলির সার্থকতা আছে, তাই এসেছে । পরীক্ষা না এলে প্রগতি বুঝা যায় না । আমরা এ যাবৎ প্রকৃত শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছি, না লাভ পূজা প্রতিষ্ঠার জন্য শিষ্যত্বের অভিনয় মাত্র করেছি, তার অগ্নিপরীক্ষা এসেছে, তাই সৎসাধকের, প্রকৃত শিষ্যের এতে ভয় হয় না, সে আরও উৎসাহ ও নিশ্চয়তার সহিত ধৈর্য্যের সহিত সাধনে একনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে ।

ভগবানের কোন ভুল হয় না । সমগ্র সৃষ্টিকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন । এটা আমাদের দায়িত্ব নয় । আমি যদি নিষ্কপট হই তবে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইতে চলতে হবে, আমরা প্রকৃত দেশপ্রেমী কি না তাত’ যুদ্ধক্ষেত্রেই পরীক্ষা হয় । আমি সাধু-গুরু, গৌর, কৃষ্ণ, রাধাগোবিন্দ, এঁদের শরণাগত । পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি এঁদের ছেড়ে যাচ্ছি না । সকলেই আমাকে ত্যাগ করে চলে যেতে পারে, আমি কিন্তু আমার নিষ্ঠায় শরণাগতিতে অবিচলিত থাকব । তা হলে গুরুবর্গ অদৃশ্য থেকেই আমার উপর তাঁদের শুভাশীষের ধারা বর্ষণ করবেন ।

আমাদের নিজের আত্মসমীক্ষ করা দরকার যে আমরা কি পরিমাণে স্বার্থপর ? আমাদের মধ্যে আমাদের পূর্ব অনভিপ্রেত খারাপ অভ্যাস বা “অনর্থ” এখনও কতটা আমাদের হৃদয়ে থাকছে । কর্ম, জ্ঞান, মনের বাসনা এবং অন্যান্য অপবিত্র চিন্তা আমাদের মধ্যে থেকে আমাদের ভক্তিপথের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সঙ্গে কতটা মিশে রয়েছে । সেগুলি সবই বেরিয়ে আসা চাই এবং সেগুলি দূরীভূত হওয়া চাই । আমরা যদি সত্যিই ভাল চাই, তা হলে কেউ তাতে বাধা দিতে পারে না । এই প্রকার মনোবৃত্তি নিয়ে আমরা এগিয়ে গেলে তখন বুঝতে পারব কোনটা কি ?

(শ্রীল ভক্তি রক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ)

 

 

 

 

 

সাধুসঙ্গের সর্ব্ব শ্রেষ্ঠ ফল
'যে গৌড়ীয়া-বৈষ্ণবগণ শ্রীরূপানুগ-ধারায় আচরণ করেছেন, তাদেরকে বাদ দিয়ে কিছু হতে পারে না । এই লাইনের বাহিরে গেলে আমাদের কোন কাজ নয় । কিন্তু এখানে একটা সমস্যা আছে । বহু ভাগ্যের ফলে আমরা এই মানব জন্ম লাভ করেছি কিন্তু খাওয়ার লোভে, অর্থের লোভে, মুক্তির লোভে, ভুক্তির লোভে, ভোগ-বাসনার জন্য আমরা এই সাধন-ভজনের ফল অবলম্বন করতে পারি না ।'

      

শ্রীগৌড়ীয়-পর্ব্ব-তালিকা : ২০২৬ সাল

জ্যৈষ্ঠ মাস- ৩১ দিন

ত্রিবিক্রম মাস—২৯ দিন (প্রথমার্দ্ধ)

(মে মাস- ৩১ দিন)

১৫ ত্রিবিক্রম, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৬ মে, শনিবার, অমাবস্যা রাত্রি ১।৫১ । অমাবস্যার উপবাস । উঃ ৫।০, অঃ ৬।৭ ।

পুরুষোত্তম মাস—৩০ দিন

১ পুরুষোত্তম, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৭ মে, রবিবার, গৌর প্রতিপদ রাত্রি ১১।২৮ । উঃ ৫।০, অঃ ৬।৮ ।

১০ পুরুষোত্তম, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৬ মে, মঙ্গলবার, গৌর দশমী দিবা ৭।৫৩ । উঃ ৪।৫৭, অঃ ৬।১২ ।

১১ পুরুষোত্তম, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ২৭ মে, বুধবার, গৌর একাদশী দিবা ৮।২ । পদ্মিনী একাদশী ব্রতের উপবাস । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।১৩ ।

১২ পুরুষোত্তম, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ২৮ মে, বৃহস্পতিবার, গৌর দ্বাদশী দিবা ৮।৪২ । প্রাতঃ ৪।৫৬ গতে দিবা ৮।৪২ মধ্যে একাশদী ব্রতের পারণ । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।১৩ ।

১৪ পুরুষোত্তম, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, শনিবার, গৌর চতুর্দ্দশী দিবা ১১।২১ । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।১৪ ।

১৫ পুরুষোত্তম, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ৩১ মে, রবিবার, পূর্ণিমা দিবা ১।১২ । পূর্ণিমার উপবাস । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।১৪ ।

(জুন মাস- ৩০ দিন)

২৫ পুরুষোত্তম, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১০ জুন, বুধবার, কৃষ্ণ দশমী রাত্রি ৭।৪৯ । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।১৮ ।

২৬ পুরুষোত্তম, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১১ জুন, বৃহস্পতিবার, কৃষ্ণ একাদশী সন্ধ্যা ৬।৮ । পরমা একাদশী ব্রতের উপবাস । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।১৮ ।

২৭ পুরুষোত্তম, ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১২ জুন, শুক্রবার, কৃষ্ণ দ্বাদশী অপরাহ্ণ ৪।৯ । প্রাতঃ ৪।৫৬ গতে পূর্ব্বাহ্ণ ৯।২৩ মধ্যে একাদশী ব্রতের পারণ । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।১৯ ।

২৯ পুরুষোত্তম, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪ জুন, রবিবার, কৃষ্ণ চতুর্দ্দশী দিবা ১১।৩৩ । উঃ ৪।৫৫, অঃ ৬।২০ ।

৩০ পুরুষোত্তম, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৫ জুন, সোমবার, অমাবস্যা দিবা ৯।৫ । অমাবস্যা উপবাস । উঃ ৪।৫৫, অঃ ৬।২০ ।

 


আষাঢ় মাস—৩২ দিন

ত্রিবিক্রম মাস—২৯ দিন (শেষার্দ্ধ)

১৬ ত্রিবিক্রম, ১ আষাঢ়, ১৬ জুন, মঙ্গল-বার, গৌর প্রতিপদ দিবা ৬।৩৭ । পরে দ্বিতীয়া শেষরাত্রি ৪।১৩ । শ্রীচৈতন্য-সারস্বত কৃষ্ণানুশীলন সঙ্ঘের শ্রীশ্রীগুরু-গৌরাঙ্গ-রাধা-মদনমোহন জীউর প্রাকট্য মহোৎসব । উঃ ৪।৫৫, অঃ ৬।২০ ।

১৮ ত্রিবিক্রম, ৩ আষাঢ়, ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার, গৌর চতুর্থী রাত্রি ১২।০ । ত্রিদণ্ডিস্বামী শ্রীমদ্ভক্তিগৌরব গিরি মহারাজের (শ্রীপাদ পরমানন্দ বিদ্যারত্ন প্রভুর) তিরোভাব । উঃ ৪।৫৫, অঃ ৬।২১ ।

২২ ত্রিবিক্রম, ৭ আষাঢ়, ২২ জুন, সোমবার, গৌর অষ্টমী রাত্রি ৭।৪০ । রাত্রি ৯।১০ গতে অম্বুবাচী প্রবৃত্তিঃ । উঃ ৪।৫৫, অঃ ৬।২৩ ।

২৪ ত্রিবিক্রম, ৯ আষাঢ়, ২৪ জুন, বুধবার, গৌর দশমী রাত্রি ৮।২২ । দশহরা, শ্রীগঙ্গাপূজা । শ্রীগঙ্গামাতা গোস্বামিনীর আবির্ভাব । শ্রীল বলদেব বিদ্যাভূষণ প্রভুর তিরোভাব । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।২৪ ।

২৫ ত্রিবিক্রম, ১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার, গৌর একাদশী রাত্রি ৯।২৯ । নির্জ্জলৈকাদশী (পাণ্ডবা নির্জ্জলা একাদশী) ব্রতের উপবাস । উঃ ৪।৫৬, অঃ ৬।২৪ ।

২৬ ত্রিবিক্রম, ১১ আষাঢ়, ২৬ জুন, শুক্রবার, গৌর দ্বাদশী রাত্রি ১০।৫৮ । প্রাতঃ ৪।৫৭ গতে পূর্ব্বাহ্ণ ৯।২৫ মধ্যে নির্জ্জলা একাদশী ব্রতের পারণ । দিবা ৯।৩৩ গতে অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ । উঃ ৪।৫৭, অঃ ৬।২৩ ।

২৭ ত্রিবিক্রম, ১২ আষাঢ়, ২৭ জুন, শনিবার, গৌর ত্রয়োদশী রাত্রি ১২।৪৮ । শ্রীপাট পানিহাটিতে শ্রীল রঘুনাথ দাস গোস্বামীর প্রদত্ত দণ্ড মহোৎসব । শ্রীপাদ ভক্তিবৈভব পরিব্রাজক মহারাজের নির্য্যাণ । উঃ ৪।৫৭, অঃ ৬।২৪ ।

২৮ ত্রিবিক্রম, ১৩ আষাঢ়, ২৮ জুন, রবিবার, গৌর চতুর্দ্দশী রাত্রি ২।৪৭ । উঃ ৪।৫৭, অঃ ৬।২৩ ।

২৯ ত্রিবিক্রম, ১৪ আষাঢ়, ২৯ জুন, সোমবার, পূর্ণিমা শেষরাত্রি ৪।৪৮ । শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা । শ্রীল মুকুন্দ দত্ত ও শ্রীল শ্রীধর পণ্ডিতের তিরোভাব । পূর্ণিমার উপবাস । উঃ ৪।৫৮, অঃ ৬।২৩ ।

 

      

 

 

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥