শ্রীপুরীধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


মহাপ্রভুর পুরীতে যাত্রা : ভুবনেশ্বর শ্রীলিঙ্গরাজ

 

প্রাচীনকালে কাশিধামস্থ শিব দেবর্ষি নারদকে বললেন, “আমি আর এখানে থাকব না । যথার্থ ধর্ম্মও এখানে থাকবে না—সব লোক অধর্ম্মচারী ও দুর্বুদ্ধি হয়ে পড়বে ! এই স্থানে আমি আমার তপস্যা করতে আর পারি না । কিন্তু কোথায় যাব ?” তখন নারদ মুণির উপদেশ অনুসারে শিবজী মহারাজ পার্বতীর সঙ্গে কৈলাসে গমন করলেন ।

এদিকে যখন শিব কাশি-নগর ছেড়ে দিলেন, তখন নর-রাজাগণ কাশি অবাধে ভোগ করতে লাগলেন । তার মধ্যে এক রাজা কাশিরাজা নামে ছিল । সঙ্গে সঙ্গে এই কাশিরাজারর দুর্বুদ্ধি বেড়ে গেল এবং তিনি কৃষ্ণকে জয় করবার জন্য উগ্র তপে শিবের পূজা করতে লাগলেন । শিবঠাকুরের নাম হচ্ছে আশুতোষ—তাঁকে সন্তুষ্ট করতে সহজ, তাই তিনি রাজার তপের দ্বারা সন্তুষ্ট হয়ে তার সামনে হাজির হয়ে জিজ্ঞেস করলেন তিনি কি চাইছেন ? রাজা বললেন, “আমি কৃষ্ণকে বধ করতে চাই ।” শিব তখন কথা দিলেন যে, তিনি তাকে পাশুপত অস্ত্রের দ্বারা সাহায্য করবেন ।

কৃষ্ণ তবে সর্বেশ্বর, তিনি সব জানেন । কৃষ্ণ সুদর্শন চক্র ডেকে তার দ্বারা কাশিরাজের মাথা ছেদন করলেন । তখন সমস্ত বারাণসী কাঁপতে কাঁপতে কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করলেন আর শিবঠাকুর সুদর্শন চক্রের ভয়ে শ্রীকৃষ্ণের চরণে আশ্রয় গ্রহণ করে তাঁর অপরাধ ক্ষমা চাইছিলেন । শ্রীকৃষ্ণ লোককে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁর প্রিয় নিত্যসেবক শিবের অপরাধ ক্ষমা করলেন ।

শিবজি মহারাজ তখন শ্রীকৃষ্ণকে কাকুতি-মিনতি করে জিজ্ঞেস করলেন, “হে প্রভু, আমি কোথায় যাব ? কোথায় বাস করব ?”

কৃপাময় শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “একাম্রক-বনে যাও, এখানে তুমি বাস করতে পারবে ।”

সেই একাম্রক-বনের নাম হচ্ছে ‘গুপ্ত কাশি’ বা ‘ভুবনেশ্বর’ । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন :

হেন সে আমার পুরী তাহার উত্তরে ।
তোমারে দিলাঙ স্থান রহিবার তরে ॥
ভুক্তি-মুক্তি-প্রদ সেই স্থান মনোহর ।
তথা তুমি খ্যাত হৈবা ‘শ্রীভুবনেশ্বর’ ॥

(চৈঃ ভঃ, ৩/২/৩৭৮-৩৭৯)

শুন শিব, তুমি মোর নিজ-দেহ সম ।
যে তোমার প্রিয়, সে মোহার প্রিয়তম ॥
যথা তুমি, তথা আমি, ইথি নাহি আন ।
সর্ব্বক্ষেত্রে তোমারে দিলাঙ আমি স্থান ॥
ক্ষেত্রের পালক তুমি সর্ব্বথা আমার ।
সর্ব্বক্ষেত্রে তোমারে দিলাম অধিকার ॥
একাম্রক-বন যে তোমারে দিল আমি ।
তাহাতেও পরিপূর্ণ রূপে থাক তুমি ॥
সেই ক্ষেত্রে আমার পরম প্রিয় স্থান ।
মোর প্রীতে তথায় থাকিবে সর্ব্বক্ষণ ॥

(চৈঃ ভঃ, ৩/২/৩৮৯-৩৯৩)

জয় শ্রীভুবনেশ্বর লিঙ্গরাজ কি জয় ।

 


 

← গ্রন্থাগারে ফিরে

 

অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


সূচীপত্র:

সূচনা : শ্রীজগন্নাথদেব
মহাপ্রভুর ইচ্ছা ও পুরীতে যাত্রার আরম্ভ
মহাপ্রভুর পুরীতে যাত্রা :
শান্তিপুর
রেমুণা
সাক্ষীগোপাল
ভুবনেশ্বর
ভুবনেশ্বর শ্রীলিঙ্গরাজ
আঠারনালা
শ্রীপুরীধামে :
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের সথে মিলন
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের শিক্ষা
কাশী মিশ্রের কথা
রামানন্দ রায়ের পুনর্মিলন ও প্রকৃতি
ভক্তদের সহিত শ্রীক্ষেত্রে বার্ষিক মিলন
রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রতি কৃপা
গোবিন্দ প্রভুর শিক্ষা
দর্শনের আর্ত্তি
শ্রীআলালনাথের কথা
কালিদাসের ব্যতিক্রম
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের প্রসাদে রুচি
“ষাঠী বিধবা হয়ে যাক !”
গঙ্গা মাতা গোস্বামিণী
শ্রীগোপাল গুরুর কথা
শ্রীজগদানন্দ পণ্ডিতের প্রেম
শ্রীলসনাতন গোস্বামীর সঙ্গ
রামচন্দ্র পুরীর কথা
শ্রীপরমানন্দ পুরীর ভক্তিকূপ
দামোদর পণ্ডিতের বিদায়
ছোট হরিদাসের শাস্তি
গুণ্ডিচা-মার্জ্জন লীলা
শ্রীনারায়ণ ছাতায়
চটকপর্ব্বতের কথা
গম্ভীরা—বিরহের জ্বলন্ত ঘর
শ্রীল হরিদাসঠাকুর : নামাচার্য্য শিরোমণি
শ্রীগদাধর পণ্ডিত : মহাপ্রভুর ছায়া
শ্রীরঘুনাথদাস গোস্বামীর শ্রীপুরীধামে আগমন ও ভজন
পরিশেষ

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥