![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
শ্রীউপদেশ (২) গৃহে আবদ্ধ
গৃহস্থ ব্যক্তিকে আমি বারবার বলি যে, সময় পেলে আশ্রমে গিয়ে, মঠে গিয়ে সেবা করবেন । সময় নষ্ট করবেন না—হরিগুরুর সঙ্গে যেতে থাকুন, ভক্তগণের সঙ্গে যেতে থাকুন । দেখুন কত সুন্দর করে শ্রীমদ্ভাগবতে লেখা হয় : আপনারা গৃহে থাকেন, কিন্তু গৃহে থেকে কি করতে হবে ? গৃহে থাকতে হবে অতিথির মত । আপনারা এই বাড়ির অতিথি । যদি কোন বাড়িতে আপনারা আসেন (জামাই বাড়িতে, শশুর বাড়িতে বা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে), সেখানে আপনারা অতিথি (মালিক নন) । যদি ভাবেন যে, “এই বাড়িটা আমার বাড়ি !” তাহলে অন্ধতমঃ যোনিতে প্রবেশ করতে হবে (খারাপ জন্ম পরে পাবেন) ।
ইত্থং পরিমৃশন্মুক্তো গৃহেষ্বতিথিবদ্বসন্ । (শ্রীমদ্ভাগবতম্, ১১/১৭/৫৪) “যারা বিবেচনা করে অনাসক্ত ভাবে অতিথির ন্যায় গৃহে বাস করে ‘অহং-মমতা’ ও অহঙ্কারশূন্যে, তাদের কখনও গৃহে আবদ্ধ হবে না ।” আপনারা গৃহস্থ-আশ্রমে গৃহে বাস করতে পারেন, বারণ কিছু নেই, কিন্তু ভগবান বলছেন, “আমার ভক্ত গৃহে থেকে কর্ম্মসমূহের দ্বারা আমাকে ভজন করে ।” তাই চাকরি, ব্যবসা করে আপনারা টাকা-পয়সা অর্জন করেন আর সেই পয়সা দিয়ে ভগবানের সেবা করবেন—তখন আপনারা যা কিছুই করেন, সেই পয়সার উদ্দেশ্যটা সফল হয়ে যাবে । বুঝতে পারছেন ? যদি না বুঝতে পারেন, একটা উদাহরণ আমি দিয়ে দিচ্ছি । কেউ ভাবছেন যে, “টাকা-পয়সা অনেক আছে, আমার একটা বৃহৎ বাড়ির দরকার”, আর অন্য কেউ ভাবছেন যে, “আমার ঠাকুরের জন্য একটা বাড়ির দরকার ।” তখন গৃহে বাস করবেন কি রকম ? বাড়িতে অনেক লোকগুলো আছে (ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়, ইত্যাদি), কিন্তু আপনারাদের বুঝতে হয় যে, সব কিছু ব্যবস্থা করেন ভগবান । যতটা আপনাদের দরকার, ততটাই ভগবান আপনাদেরকে ব্যবস্থা দেবেন । যে ব্যক্তির গৃহে আসক্তিচিত্ত হয়—সবসময় আতুর হয়ে যায়, খালি পুত্রের চিন্তা করে, ধনের চিন্তা করে, স্ত্রীর চিন্তা করে—সেই মূঢ় ব্যক্তি “আমি” এবং “আমার” জ্ঞানে বদ্ধ হয় । আপনারা ভাবছেন, “হায়, আমার পিতা-মাতার কি হবে ? হায়, আমার শিশু-সন্তানের কি হবে ? হায়, আমার ভার্যা-স্ত্রীর কি হবে ? আমি না থাকলে, আমার বিনা সবাই অনাথ ও দুঃখিত হয়ে যাবে !” এইরকম গৃহবিলাস অতৃপ্তচিত্ত, অসন্তুষ্ট ও মন্দ বুদ্ধির ব্যক্তি পুত্র-কন্যার সর্ব্বদা ধ্যান করে আর মৃত্যুর পর অন্ধতমঃ অতি তামসীক যোনিতে প্রবেশ করে, অর্থাৎ পরের জন্মে অন্য প্রাণী (বিড়াল, ছাগল, কুকুর, ইত্যাদি) হয়ে জন্ম গ্রহণ করতে হবে । কী কঠিন জিনিস ! শুধু দুর্গা-কালীর কাছে গিয়ে “ধনং দেহি, বিদ্যাং দেহি, রূপং দেহি, ভার্যাং দেহি” (“ধন চাই, বিদ্যা চাই, রূপ চাই”) বারবার চাইলে ভগবান বলবেন, “আমি ওর কাছে থাকব না !” দেবদেবতার একটা পূজা করলে, তারা আপনাদের কমনীয় বস্তু দিয়ে আপনাদেরকে সন্তুষ্ট করবেন । তারা আপনাদের পূজা চান আর তার বিনিময়ে আপনাদেরকে সুখ দিয়ে দেবেন—সাময়িক সুখ । কিন্তু এই দেহ চলে যাওয়ার পর আপনাদের কী অবস্থা হবে ? প্রকৃত সাধু এই কথা বলবার জন্য আপনাদের বাড়িতে আসেন :
মহান্ত-স্বভাব এই তারিতে পামর । (শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত, ২/৮/৩৯) তাদের উদ্দেশ্যটা কী ? টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত ? না । সব চেয়ে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে এইটা : আমরা এসেছি আপনাদেরকে আত্মসাথ করবার জন্য—আপনাদের বাড়ি-ঘর, টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত আত্মসাথ করবার জন্য আসিনি ! আমরা এসেছি আপনাদেরকে আত্মসাথ করবার জন্য ।” আসল কথাটা এই যে, আমরা বড় ডাকাত—বাড়িতে যে যে আছে, তাদেরকে আত্মসাথ করে গোবিন্দের সেবায় লাগাই । এইটা হচ্ছে আত্মসাথ । আমরা কীর্ত্তনেই বলি, “হে প্রভু, তুমি আমাকে আত্মসাথ করে নিয়ে যাও !” সে কথা হৃদয় থেকে বলতে হবে । আত্মসাথ করা মানে কী ? “আমাকে তুমি নিয়ে চল, তোমার সেবায় আমাকে নিযুক্ত কর ।” সেইজন্য সাধু-গুরু-বৈষ্ণবগণ সবাইকে গুরু-বৈষ্ণব-ভগবানের সেবায় লাগাতে চান । এটা হচ্ছে সবচেয়ে উঁচ্চ ধারণা । যে গুরু-বৈষ্ণব-ভগবানের সেবা করেন (যদি সেটা সত্যিকারের হরিভজন), তাঁর যে পূর্ব্ব পুরুষগণ আছে (বাবা, ঠাকুরদাদা, আর তার বাবাও, তার দাদাও, এর যে আছে), যে অন্ধতমঃ যোনিতে পড়ে আছেন, তারাও সেই কষ্ট থেকে উদ্ধার পেয়ে গোবিন্দের চরণে চলে যেতে পারেন—শুদ্ধু এক জনের দ্বারা ।
— • • • —
|
সূচীপত্র: সূচনা : আমাদের একমাত্র কৃত্য ১। ভক্তির অভাব ২। গৃহে আবদ্ধ ৩। মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে ৪। জীবের প্রকৃত দয়া কী ? ৫। ভোগী নই ত্যাগীও নই ৬। শ্রবণ-কীর্ত্তনে মতি ৭। ভগবানের কৃপা ও আপনার চেষ্টা ৮। ভগবানের চরণে পথ ৯। শান্তির গুপ্ত কথা ১০। শ্রীবামনদেবের কথা ১১। শ্রীনৃসিংহদেবের কথা ১২। পূজনীয় বিসর্জন ১৩। ভক্ত ও নাপিত ১৪। চকচক করলেই সোনা হয় না ১৫। আমি তো সব ব্যবস্থা করি নাকি ? ১৬। দণ্ড মহৎসব ১৭। শিবজী মহারাজ : পরম বৈষ্ণব ১৮। মায়ার চিন্তা বা কৃষ্ণের চিন্তা ? ১৯। আমাদের একমাত্র উপায় ২০। পবিত্র জীবন ২১। শ্রীহরিনাম দীক্ষা : গুরুপাদপদ্মের দান ২২। আমার শোচন |
||||||
| বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥ | |||||||
|
© Sri Chaitanya Saraswat Math, Nabadwip, West Bengal, India. For any enquiries please visit our contact page. { ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন } |
|||||||