![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
শ্রীউপদেশ (১৭) শিবজী মহারাজ : পরম বৈষ্ণব
কেউ বলে, “তুমি শিবের ভক্ত, আমি কৃষ্ণের ভক্ত নই !” এরকম বলবেন না । শিব আর কৃষ্ণ আলাদাও নয়, আবার শিব আর কৃষ্ণ একও নয় । শিব হচ্ছেন কৃষ্ণের অংশবিশেষ ।
ব্রজেন্দ্রনন্দন কৃষ্ণ সর্ব্বেশ্বরেশ্বর । (শ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ, দশবিধ নামাপরাধ) প্রশ্ন : আমাদের বাড়িতে বিরাট শিব মন্দির আছে, শিবের পজিশনটা (সম্বন্ধটা) কী ? শিবের পূজা করলে অসুবিধা কিছু নেই । শিব হচ্ছেন পরম বৈষ্ণব । কিন্তু শিবজী মহারাজকে নকল করবেন না । শিব বিষ হজম করেছেন—আপনি বিষ খেতে পারবেন ? শিব গাঁজা খেতে পারেন কিন্তু আপনি যদি গাঁজা খাওয়া শুরু করেন, সেটা খুব খারাপ । আমার গুরুদেব হচ্ছেন শিবের পুত্র, জানেন তো ? জামালপুরে বুড়োরাজ শিবজী মহারাজ আছেন, তাঁর পুত্র হচ্ছেন আমাদের গুরুদেব । গুরুদেবের মা সন্তান না পেয়ে জামালপুরে গেলেন আর শিবজী মহারাজকে বললেন, “আমার ছেলে-সন্তান হয় না । ঠাকুর, ছেলে হলে আমি তাকে তোমাকে দিয়ে দেব ।” তারপর একটু পরে তিনি সন্তান পেলেন—এটাই আমাদের গুরুদেব হচ্ছেন । ছেলেটা হাওয়ার পর বাড়িতে অনেক ভূত-পেত্নী ঘুরতে লাগল বলে বাবা-মা তাঁকে গোবর-কাজল কপালে দিলেন যেন কিছু অশুভ হয় না । তখন গুরু মহারাজের বাবা (নিতাইপাদ) জামালপুরে গেলেন । যখন তিনি ওখানে প্রণাম করলেন, তখন ওখান থেকে দৈববাণী শুনতে পেলেন—শিবজী মহারাজ তাঁকে বললেন, “কই ! তুমি আগে বলেছিলে ছেলেটা আমাকে দিয়ে দেবে । ছেলে তোমার কাছেই থাকবে কিন্তু ছেলেটা আমার ছেলে, তার মাথায় তুমি গোবর দিয়েছ কেন ?? গোবরটা মুছে ফেলে দিয়ে চন্দন দিয়ে দাও !” তখন নিতাইপাদ বাড়ি গিয়ে নিজের মাকে বললেন যা ধর্ম্মরাজ (বুড়োরাজ শিবজী মহারাজ) বলে দিয়েছিলেন । গোবরটা সরিয়ে দিয়ে তিনি ছেলের কপালে চন্দন দিলেন । একবার শিবজী মহারাজকে ভগবান্ পরীক্ষা করলেন । শিবজী মহারাজ বললেন কৃষ্ণকে, “প্রভু, একটা লীলা আমাকে দেখাও ।” তখন কৃষ্ণ সঙ্গে সঙ্গে নিজে মোহিনীরূপ ধারণ করলেন । মেয়ে হয়ে তিনি একটা বল নিয়ে পিং-পং করে খেলা করছিলেন । তাঁকে দেখতে পেয়ে শিবজী মহারাজ মোহিত হয়ে পড়েলেন আর মেয়েটার পিছনে পিছনে দৌড়াতে লাগলেন । সবাই তাঁকে দেখে বলল, “আরে বাবা ! সাধুলোক একটা মেয়ের পিছনে দৌড়াছে কেন ? ও কি পাগল হয়ে গেল ?” পার্বতীও বললেন, “আরে ! তুমি কোথায় যাচ্ছ, প্রভু ?! আমি তোমার স্ত্রী আছি !” কথায় স্ত্রী ? সব ছেড়ে দিয়ে শিবজী মহারাজ কিছু শুনতে পারলেন না । দৌড়ে গিয়ে অবশেষে মেয়েটাকে ধরে ফেললেন কিন্তু তিনি যখনই তাঁকে আলিঙ্গন করলেন তখনই মেয়েটা কৃষ্ণরূপ হয়ে গেলেন আর উভয়ের দুই অঙ্গ মিশে গেল—একটা হরি, আর একটা হর । যে স্থানে এটা সব হল, সেই স্থানটার নাম হল ‘হরিহর ক্ষেত্র’ । নবদ্বীপে গেলে এই ক্ষেত্রটা দেখতে পাবেন । শিবজী মহারাজ পরমভক্ত । বৃন্দাবনে গেলে সেখানে রাসেশ্বর মহাদেব, চকলেশ্বর, ভূতেশ্বর, গোপেশ্বর, এসব মহাদেব দেখতে পাওয়া যায় । একবার রাসেশ্বর মহাদেব গোকুলে এসে বসে ছিলেন গোপালের দর্শন করবার জন্য কিন্তু যশোদা মা তাঁকে দেখে বললেন, “না, না, আমার গোপাল তোমার দেখলে ভয় পেয়ে যাবে ! তোমার বিরাট বিরাট জটা, বিরাট বিরাট দাড়ি, গলায় সাপ নিয়ে এসেছ ! এসব কী ? আমি গোপালকে দেখাব না ।” তখন রাসেশ্বর মহাদেব সেখান থেকে তাঁর আস্তানায় চলে গেলেন আর সেখানে বসে ধ্যান করলেন, “কবে ভগবানের দর্শন পাব ?” এদিকে গোপাল (ভগবান শ্রীকৃষ্ণ) কাঁদতে শুরু করলেন—তাঁর ভক্ত তাঁকে না দেখে চলে গাছে, তাঁর কষ্ট হয়েছে… খুব কাঁদতে কাঁদতে গোপাল মাকে বললেন, “মহাদেবকে নিয়ে এসো তাহলে আমি কাঁদতে থামাব !” এইজন্য শিব ভগবানের সেবক, অংশবিশেষ—একও নয় আবার আলাদাও নয় । মনে রাখবেন ।
— • • • —
|
সূচীপত্র: সূচনা : আমাদের একমাত্র কৃত্য ১। ভক্তির অভাব ২। গৃহে আবদ্ধ ৩। মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে ৪। জীবকে সত্য দয়া কি ? ৫। ভোগী নই ত্যাগীও নই ৬। শ্রবণ-কীর্ত্তনে মতি ৭। ভগবানের কৃপা ও আপনার চেষ্টা ৮। ভগবানের চরণে পথ ৯। শান্তির গুপ্ত কথা ১০। শ্রীবামনদেবের কথা ১১। শ্রীনৃসিংহদেবের কথা ১২। পূজনীয় বিসর্জন ১৩। ভক্ত ও নাপিত ১৪। চকচক করলেই সোনা হয় না ১৫। আমি তো সব ব্যবস্থা করি নাকি ? ১৬। দণ্ড মহৎসব ১৭। শিবজী মহারাজ : পরম বৈষ্ণব ১৮। মায়ার চিন্তা বা কৃষ্ণের চিন্তা ? ১৯। আমাদের একমাত্র উপায় ২০। পবিত্র জীবন ২১। শ্রীহরিনাম দীক্ষা : গুরুপাদপদ্মের দান ২২। আমার শোচন |
||||||
| বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥ | |||||||
|
© Sri Chaitanya Saraswat Math, Nabadwip, West Bengal, India. For any enquiries please visit our contact page. { ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন } |
|||||||