![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
শ্রীউপদেশ (৩) মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে
কয় বার এলি কয় বার গেলি তবু তত্ত্ব না শিখিলি । আপনারা দশ মাস দশ দিন ধরে মাতৃগর্ভে ছিলেন—মাথা ছিল নিচের দিকে, পা ছিল উপরের দিকে… আমি আপনাদেরকে বারবার বলে দিচ্ছি কত কষ্ট জীব মায়ের পেটের মধ্যে করছে । সেই কষ্ট থেকে উদ্ধার পেতে চেয়ে জীব প্রভুকে কথা দিয়েছিল । আপনারা যখন মায়ের পেটে ছিলেন কত কষ্ট তখন করেছিলেন, সেখানে আপনারা ভগবানকে ডেকেছেন, “প্রভু, আমি আর এ কষ্ট সহ্য করতে পারছি না !” তখন ভগবান কোন কোন ভাগ্যবান্ জীবকে মায়ের পেটে নিজেকে দেখা দেন, “বল, তুমি আমাকে কেন ডেকেছিস ?” “প্রভু, আমি এই কষ্ট আর করতে পারছি না, আমাকে এখান থেকে ছেড়ে দাও !” তখন ভূমিষ্ঠ হাওয়ার আগে সেই জীব কথা দেয়, “চোখ দিয়ে তোমার বিগ্রহ দর্শন করব, মুখ দিয়ে তোমার নাম করব, কান দিয়ে তোমার কথা শুনব ।” সব কিছু হ্যাঁ বলে দিয়ে এসেছিলাম । ভগবান যে ইন্দ্রিয়গুলো দিয়েছেন (চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক্, মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার), সে ইন্দ্রিয়গুলো দিয়েছেন গোবিন্দের সেবা করবার জন্য । এই দুটো হাত দিয়েছেন তাঁর সেবা করবার জন্য (তাঁর রান্না করবার জন্য, তাঁর বাসন মার্জন করবার জন্য, তাঁর মালা গাঁথার জন্য), পাও দিয়েছেন তাঁর ধাম পরিক্রমা করবার জন্য, চোখ দিয়েছেন তাঁর বিগ্রহ দর্শন করবার জন্য, কান দিয়েছেন তাঁর কথা শুনবার জন্য । কিন্তু আমরা কি করেছি ? ভূমিষ্ঠ হাওয়ার পর মায়ার কবলে পতিত হয়েছিলাম—দোষটা আমাদের না কি । চোখটাই ভালো প্রথমই ছিল কিন্তু যদি একটা ছানি পড়ে যায়, তখন ছানি না কেটে কিছু দেখতে পাব না । কানও এরকম—বুড়ো হয়ে গেলে ভালো শুনতে পাব না । পায়ে যদি ব্যথা হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন জায়গায়, ধাম পরিক্রমা, তুলসী পরিক্রমাও করতে পারব না । এগুলো সব ভগবান্ আমাদেরকে দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা কি করলাম ? মায়ার কবলে পতিত হয়ে পড়লাম…
মায়াকে কে সৃষ্টি করেছেন ? ভগবান্ । (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ৭/১৪) ভগবান্ বলছেন, “এই মায়াকে আমি সৃষ্টি করেছি । তুমি ওকে জয় করতে পারবে না । তবে পারবে কখন ? ‘মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ।’ যে আমাকে প্রপদ্য করে—যে আমার চরণে শরণাগত হয়, যে আমার চরণে এসে পড়ে যায়—আমি তাকে আস্তে আস্তে মায়া থেকে রেহাই দেই । যখন তুমি আমার ভক্তের ও আমার শরণাপন্ন হয়, তখন মায়া দেবী দেখতে পাবে যে, ‘আমার সৃষ্টিকর্তা চলে এসেছেন’ আর তোমার কাছ থেকে আস্তে আস্তে পালিয়ে যাবে । ‘মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ।’” মায়াকে জয় করবার জন্য সাধু-সঙ্গ করতে হয় । মায়াকে সাধু-সঙ্গ ছাড়া জয় করা যায় না :
মায়ারে করিয়া জয় ছাড়ান না যায় । (শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর)
— • • • —
|
সূচীপত্র: সূচনা : আমাদের একমাত্র কৃত্য ১। ভক্তির অভাব ২। গৃহে আবদ্ধ ৩। মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে ৪। জীবের প্রকৃত দয়া কী ? ৫। ভোগী নই ত্যাগীও নই ৬। শ্রবণ-কীর্ত্তনে মতি ৭। ভগবানের কৃপা ও আপনার চেষ্টা ৮। ভগবানের চরণে পথ ৯। শান্তির গুপ্ত কথা ১০। শ্রীবামনদেবের কথা ১১। শ্রীনৃসিংহদেবের কথা ১২। পূজনীয় বিসর্জন ১৩। ভক্ত ও নাপিত ১৪। চকচক করলেই সোনা হয় না ১৫। আমি তো সব ব্যবস্থা করি নাকি ? ১৬। দণ্ড মহৎসব ১৭। শিবজী মহারাজ : পরম বৈষ্ণব ১৮। মায়ার চিন্তা বা কৃষ্ণের চিন্তা ? ১৯। আমাদের একমাত্র উপায় ২০। পবিত্র জীবন ২১। শ্রীহরিনাম দীক্ষা : গুরুপাদপদ্মের দান ২২। আমার শোচন |
||||||
| বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥ | |||||||
|
© Sri Chaitanya Saraswat Math, Nabadwip, West Bengal, India. For any enquiries please visit our contact page. { ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন } |
|||||||