আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি ENGLISH
 

শ্রীউপদেশ


(৪) জীবের প্রকৃত দয়া কী ?

 

সেবা কী ? জানেন ? সেবা মানে জীবকে দয়া ।

আমরা যখন লোকের বাড়িতে যাই কেউ এক মুষ্টি চাল দেন, কেউ পাঁচ টাকা, দশ টাকা দেন—সেটা কোন বড় কথা নয় । কিন্তু যে দিলেন, তাঁকে আমরা মঠে নিমন্ত্রণ করি, আর যে শুধু একবার নবদ্বীপ ধামে এসে সাধুর দর্শন করলে, হরিকথা, ভাগবৎকথা শুনলে, সে আস্তে আস্তে এই পথে আসেন । তারপর যদি গুরু-বৈষ্ণবের কাছে দীক্ষা ও শিক্ষা নেন, যদি আচার-আচরণ করেন, তখন তাঁকে আর পুনরায় জন্ম গ্রহণ করতে হয় না, তাঁকে আর বারবার এই জগতে আসতে হয় না, জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি ভোগ করতে হয় না । সেটা হচ্ছে সত্যিকারের জীবের প্রতি দয়া ।

চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে করতে মানব জন্ম পেয়ে গিয়েছি—আবার কি পাব ? না । যেমনটি কর্ম্ম, তেমনটি ফল ভোগ করতে হবে । আপনারা মনুষ্য জন্ম লাভ করে যদি হরিভজন না করেন, ভগবানের সেবা না করেন, তখন ফিরে যেতে হবে (আবার চুরাশি লক্ষ না যেতে হতে পারেই কিন্তু ফিরে যেতে হবেই হবে) । সেইজন্য, সদ্­গুরুর চরণে আশ্রয় গ্রহণ করে, হরিভজন করে যদি ভগবানের সেবা করতে পারেন, তাহলে আপনারা পরম কল্যাণ, পরম তৃপ্তি লাভ করতে পারেন এবং একবারে ভগবানের কাছে, ভগবানের চরণে পৌঁছাতে পারেন ।

অন্য কোন গতি নেই । আর অন্য কোন ধর্ম্মই নেই : “নাম বিনু কলি-কালে ধর্ম্ম নাহি আর” (শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত, ১/৩/১০০) । আবার ভাগবতও বলেছে (১/১/২):

পৃথিবীতে যত কথা ধর্ম্মনামে-চলে ।
ভাগবত কহে সব পরিপূর্ণ ছলে ॥

ভক্তগণ বৈষ্ণব-সেবা আয়োজন ও ভক্ত-সেবা আয়োজন করেন কি জন্য ? শুধু আপনাদেরকে খাওয়ার জন্য নয়—আপনাদেরকে কিছু মহামহাপ্রসাদ দেওয়ার জন্য । প্রসাদ মানে যে কথাগুলো শুনলে আপনাদের মঙ্গল হবে এবং যে ওই কথাগুলো বলছেন, সেও ভগবানের কাছে ‘কমিশন’ পাবেন । কী কথাগুলো এই ? “জগতের বদ্ধজীব সব ভগবানের সন্তান, কিন্তু এই মায়ার কবলে পতিত হয়ে পড়ে তারা সেটা বুঝেও বুঝতে পারে না । তাদেরকে ভগবান তাঁর নিজের বাড়িতে ফিরে নিতে আসেন ! আমার কথা শুনুন !” যে এ কথাগুলো বলেন, সে কিছু পাওনা পাবেন ।

এটা জীবে দয়া বলা হয় ।

যদি আমি আজকে আপনাদেরকে একটা ভালো জামা-কাপড় দিয়ে দেই, কালকে আপনাদের আবার ইচ্ছা হবে । আজকে আপনাদেরকে ওষুধ দিলাম আর রোগ সারল কিন্তু কালকে আর একটা রোগ হবে—আবার ওষুধ দিতে হবে । এটা হচ্ছে সাময়িক শান্তি । প্রকৃত সাধুরা যে জিনিস দেন, সেই জিনিস পেলে আপনাদের চাওয়ার বাসনা থাকবে না । ভগবান আপনাদেরকে সব দিয়ে দেন, আপনাদের চাওয়ার কী দরকার ? যখন আপনারা এটা বুঝতে পারবেন, তখন আপনাদের সব চাওয়ার বাসনা কেটে যাবে ।

 

— • • • —

 

 

← (৩) মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে (৫) ভোগী নই ত্যাগীও নই →

 

সূচীপত্র:
সূচনা : আমাদের একমাত্র কৃত্য
১। ভক্তির অভাব
২। গৃহে আবদ্ধ
৩। মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে
৪। জীবের প্রকৃত দয়া কী ?
৫। ভোগী নই ত্যাগীও নই
৬। শ্রবণ-কীর্ত্তনে মতি
৭। ভগবানের কৃপা ও আপনার চেষ্টা
৮। ভগবানের চরণে পথ
৯। শান্তির গুপ্ত কথা
১০। শ্রীবামনদেবের কথা
১১। শ্রীনৃসিংহদেবের কথা
১২। পূজনীয় বিসর্জন
১৩। ভক্ত ও নাপিত
১৪। চকচক করলেই সোনা হয় না
১৫। আমি তো সব ব্যবস্থা করি নাকি ?
১৬। দণ্ড মহৎসব
১৭। শিবজী মহারাজ : পরম বৈষ্ণব
১৮। মায়ার চিন্তা বা কৃষ্ণের চিন্তা ?
১৯। আমাদের একমাত্র উপায়
২০। পবিত্র জীবন
২১। শ্রীহরিনাম দীক্ষা : গুরুপাদপদ্মের দান
২২। আমার শোচন
বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥