![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
শ্রীউপদেশ (৪) জীবের প্রকৃত দয়া কী ?
সেবা কী ? জানেন ? সেবা মানে জীবকে দয়া । আমরা যখন লোকের বাড়িতে যাই কেউ এক মুষ্টি চাল দেন, কেউ পাঁচ টাকা, দশ টাকা দেন—সেটা কোন বড় কথা নয় । কিন্তু যে দিলেন, তাঁকে আমরা মঠে নিমন্ত্রণ করি, আর যে শুধু একবার নবদ্বীপ ধামে এসে সাধুর দর্শন করলে, হরিকথা, ভাগবৎকথা শুনলে, সে আস্তে আস্তে এই পথে আসেন । তারপর যদি গুরু-বৈষ্ণবের কাছে দীক্ষা ও শিক্ষা নেন, যদি আচার-আচরণ করেন, তখন তাঁকে আর পুনরায় জন্ম গ্রহণ করতে হয় না, তাঁকে আর বারবার এই জগতে আসতে হয় না, জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি ভোগ করতে হয় না । সেটা হচ্ছে সত্যিকারের জীবের প্রতি দয়া । চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে করতে মানব জন্ম পেয়ে গিয়েছি—আবার কি পাব ? না । যেমনটি কর্ম্ম, তেমনটি ফল ভোগ করতে হবে । আপনারা মনুষ্য জন্ম লাভ করে যদি হরিভজন না করেন, ভগবানের সেবা না করেন, তখন ফিরে যেতে হবে (আবার চুরাশি লক্ষ না যেতে হতে পারেই কিন্তু ফিরে যেতে হবেই হবে) । সেইজন্য, সদ্গুরুর চরণে আশ্রয় গ্রহণ করে, হরিভজন করে যদি ভগবানের সেবা করতে পারেন, তাহলে আপনারা পরম কল্যাণ, পরম তৃপ্তি লাভ করতে পারেন এবং একবারে ভগবানের কাছে, ভগবানের চরণে পৌঁছাতে পারেন । অন্য কোন গতি নেই । আর অন্য কোন ধর্ম্মই নেই : “নাম বিনু কলি-কালে ধর্ম্ম নাহি আর” (শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত, ১/৩/১০০) । আবার ভাগবতও বলেছে (১/১/২):
পৃথিবীতে যত কথা ধর্ম্মনামে-চলে । ভক্তগণ বৈষ্ণব-সেবা আয়োজন ও ভক্ত-সেবা আয়োজন করেন কি জন্য ? শুধু আপনাদেরকে খাওয়ার জন্য নয়—আপনাদেরকে কিছু মহামহাপ্রসাদ দেওয়ার জন্য । প্রসাদ মানে যে কথাগুলো শুনলে আপনাদের মঙ্গল হবে এবং যে ওই কথাগুলো বলছেন, সেও ভগবানের কাছে ‘কমিশন’ পাবেন । কী কথাগুলো এই ? “জগতের বদ্ধজীব সব ভগবানের সন্তান, কিন্তু এই মায়ার কবলে পতিত হয়ে পড়ে তারা সেটা বুঝেও বুঝতে পারে না । তাদেরকে ভগবান তাঁর নিজের বাড়িতে ফিরে নিতে আসেন ! আমার কথা শুনুন !” যে এ কথাগুলো বলেন, সে কিছু পাওনা পাবেন । এটা জীবে দয়া বলা হয় । যদি আমি আজকে আপনাদেরকে একটা ভালো জামা-কাপড় দিয়ে দেই, কালকে আপনাদের আবার ইচ্ছা হবে । আজকে আপনাদেরকে ওষুধ দিলাম আর রোগ সারল কিন্তু কালকে আর একটা রোগ হবে—আবার ওষুধ দিতে হবে । এটা হচ্ছে সাময়িক শান্তি । প্রকৃত সাধুরা যে জিনিস দেন, সেই জিনিস পেলে আপনাদের চাওয়ার বাসনা থাকবে না । ভগবান আপনাদেরকে সব দিয়ে দেন, আপনাদের চাওয়ার কী দরকার ? যখন আপনারা এটা বুঝতে পারবেন, তখন আপনাদের সব চাওয়ার বাসনা কেটে যাবে ।
— • • • —
|
সূচীপত্র: সূচনা : আমাদের একমাত্র কৃত্য ১। ভক্তির অভাব ২। গৃহে আবদ্ধ ৩। মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে ৪। জীবের প্রকৃত দয়া কী ? ৫। ভোগী নই ত্যাগীও নই ৬। শ্রবণ-কীর্ত্তনে মতি ৭। ভগবানের কৃপা ও আপনার চেষ্টা ৮। ভগবানের চরণে পথ ৯। শান্তির গুপ্ত কথা ১০। শ্রীবামনদেবের কথা ১১। শ্রীনৃসিংহদেবের কথা ১২। পূজনীয় বিসর্জন ১৩। ভক্ত ও নাপিত ১৪। চকচক করলেই সোনা হয় না ১৫। আমি তো সব ব্যবস্থা করি নাকি ? ১৬। দণ্ড মহৎসব ১৭। শিবজী মহারাজ : পরম বৈষ্ণব ১৮। মায়ার চিন্তা বা কৃষ্ণের চিন্তা ? ১৯। আমাদের একমাত্র উপায় ২০। পবিত্র জীবন ২১। শ্রীহরিনাম দীক্ষা : গুরুপাদপদ্মের দান ২২। আমার শোচন |
||||||
| বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥ | |||||||
|
© Sri Chaitanya Saraswat Math, Nabadwip, West Bengal, India. For any enquiries please visit our contact page. { ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন } |
|||||||